স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাংলার সিনেমা জগতে প্রভাব বিস্তারের জন্য বিজেপি অনেক আগেই চেষ্টা শুরু করে দিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এখন তৃণমূল কংগ্রসের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। টালিগঞ্জের একঝাঁক মুখ এবার বিজেপিতে। বহু জল্পনার পর এগারো জন টলি-তারকা বিজেপিতে যোগ দিলেন।

টেলিভিশন ও রূপোলি পর্দার চেনামুখ মৌমিতা গুপ্ত, রূপা ভট্টাচার্য, রূপাঞ্জনা মৈত্র, কাঞ্চনা মৈত্র, সৌরভ চক্রবর্তী, অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, অঞ্জনা বসু, ঋষি কৌশিক, পার্ণো মিত্র, লামা সহ আরও অনেকে৷

মুকুল রায়ের হাত ধরেই এই শিল্পীরা এখানে আসেন। দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে এদিন উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ,দলের জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র, মুকুল রায় ও রাহুল সিনহা। অনুষ্ঠানের শুরুতে সম্বিত পাত্র সকলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে তাদের পরিচয় দেন।

আরও পড়ুন : বড় আন্দোলন করুন, যাতে পুলিশের গুলিতে ২০ জনের মৃত্যু হয়: বিস্ফোরক সুব্রত

পরিচয় পর্বের পরই তাদের মঞ্চে ডেকে সম্মানিত করা হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের যোগদান ঘোষনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই যোগদান নিয়ে চলছিল জল্পনা।

সম্বিত পাত্র বলেন, “বাংলা কলাকুশলীরা খুবই সাহসী ও তাদের কাজের জন্যই পরিচিত। তাই তাদেরকে বিজেপিতে স্বাগত।” কলাকুশলীদের যোগদান প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “তারা খুবই সংগ্রাম করছেন। কাজ করছেন অথচ ন্যায্য প্রাপ্য পাচ্ছেন না। সেখানে তারা অনেকের সাথে ভালো ব্যবহার করতে বাধ্য হন। তবে তাদের সাহসকে কুর্ণিশ জানাই।”

আরও পড়ুন : মেয়র পদে ইস্তফা দিলেও, বিধায়ক পদ ছাড়ছেন না সব্যসাচী

প্রসঙ্গত, সাতদিন আগে অনুপম হাজরা নিজের স্যোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি ছবি প্রকাশ করেন৷ যেখানে টলি তারকারা উপস্থিত ছিলেন। তা নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। এই বিজেপি নেতা তারপরই ছবিটি সরিয়ে দেন।

এর আগেই জানা গিয়েছে, টলি-পাড়ায় তৃণমূল নিয়ন্ত্রিত সংগঠনের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করতে পথে নেমেছে বিজেপি প্রভাবিত ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স এন্ড কালচারাল কনফেডারেশন। এই সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন চেয়ারপার্সন বাবান ঘোষ, ভাইস চেয়ারপারসন সংঘমিত্রা চৌধুরী, ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পল, চলচ্চিত্র অভিনেতা জর্জ বেকার৷

মনে রাখা প্রয়োজন, ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের মান্যতা নিয়ে অন্য একটি সংগঠন ইতিমধ্যেই টলি পাড়ায় পা জমিয়েছে। বিজেপি নেতা বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী, শঙ্কুদেব পণ্ডা এবং চলচ্চিত্র পরিচালক মিলন ভৌমিক ওই সংগঠনের সঙ্গে রয়েছেন। দুটি সংগঠনের উদ্দেশ্যই প্রায় এক, টলি পাড়ায় শাসক দলের এক মন্ত্রীর একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করা।