স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দূষণ রোধে রাজ্যের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট জাতীয় পরিবেশ আদালত। সেই কারণেই রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে ডেকে পাঠালো ন্যাশনাল গ্ৰিন ট্রাইব্যুনাল। ১৭ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে গিয়ে দূষণ রোধে কি কি কাজ হয়েছে জানিয়ে আসবেন মুখ্যসচিব।

জাতীয় পরিবেশ আদালতের অভিযোগ, দূষণ রোধে রাজ্যকে যা যা নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল, তার কোনওটাই মানা হয়নি। কলকাতা ও হাওড়ায় যে ভাবে দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। গরমকালে দূষণের মাত্রা সে ভাবে বোঝা না গেলেও ঠান্ডা পড়তেই পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। যানবাহনের ধোঁয়ার দূষণ তো রয়েছেই, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নির্মাণস্থলের দূষণ, জ্বালানি ও কলকারখানার দূষণ।

এর আগে ন্যাশনাল গ্ৰিন ট্রাইব্যুনাল সব রাজ্যকে একটি গাইড লাইন পাঠিয়ে ছিল। সেখানে বলা ছিল কিভাবে গঙ্গা দূষণ বন্ধ করা হবে। জলদূষণ, বায়ুদূষণ আটকাতে কি করতে হবে। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা গাইড লাইন মানছে না। গঙ্গার দূষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। গঙ্গার পাড়ের সৌন্দর্যায়ন হয়নি। অথচ কেন্দ্র সরকারের ফান্ড এসেছে রাজ্যে।

বায়ুদূষণ আটকাতে পুরনো গাড়ির বন্ধ করা হয়নি।১০ বছরের পুরনো ডিজেলচালিত গাড়ি ধাপে-ধাপে বাতিল করার কথাও বলা হয়েছিল নির্দেশিকায়। কিন্তু দেখা গিয়েছে পুরনো গাড়ি বাতিল তো হয়নি, নির্মাণস্থল ও কলকারখানার দূষণ আরও মাত্রা ছাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন দিল্লির থেকে ও কলকাতায় দূষণের অবস্থা খারাপ।

রাজ্য সরকারের দাবি, গোটা রাজ্যে প্ল্যাস্টিক বন্ধ করা হয়েছে। পুরনো গাড়ি বন্ধ করা হয়েছে। জলাশয় তৈরি করা হচ্ছে। প্রচুর গাছ লাগানো হয়েছে। গঙ্গায় বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা হয়েছে। জঞ্জাল অপসারণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।