নিউইয়র্ক: ক্রমেই যেন ফিকে হচ্ছে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের জৌলুষ। চোটের কারণে নেই রজার ফেডেরার, করোনাতঙ্কে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন রাফায়েল নাদাল-অ্যাশলে বার্টিরা। এবার করোনা কাঁটায় নেই’য়ের তালিকাটা আরও দীর্ঘ করে ফ্লাশিং মেডো থেকে সরে দাঁড়ালেন আরও দুই প্রথম সারির মহিলা টেনিস প্লেয়ার। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ওপেন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিলেন বিশ্বের পাঁচ নম্বর ইউক্রেনের এলিনা সিতোলিনা এবং সাত নম্বর নেদারল্যান্ডের কিকি বার্টেন্স।

অন্যান্য একাধিক সিনিয়র প্লেয়ারের মতো টুর্নামেন্ট থেকে নাম তুলে নিয়ে সিতোলিনা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘সমস্তদিক চিন্তাভাবনা করে আমি ইউএস ওপেনে না খেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’ অন্যদিকে ডাচ তারকা বার্টেন্স ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছেন, ‘বিশ্বজুড়ে কোভিড১৯ এখনও সমানভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। এই সময় প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্য এবং ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাওয়া উচিৎ। তাই অনেক ভেবে আমি ইউএস ওপেন থেকে নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তবে ইউএস ওপেন থেকে নাম প্রত্যাহারের বিষয়ে তাঁর দেশের সরকারি নির্দেশিকাও তাঁকে সমানভাবে ভাবিয়েছে বলে জানিয়েছেন বার্টেন্স। বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ড জুড়ে কোয়ারেন্টাইন নিয়ম আরও কঠোরভাবে বলবৎ হয়েছে। বার্টেন্স জানিয়েছেন, ‘বিদেশ থেকে ফিরলে আমাদের দেশে দু’সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক হয়েছে। যার ফলে ইউএস ওপেন থেকে দেশে ফেরার পর রোমা এবং প্যারিসে আমার প্রিয় ক্লে-কোর্ট টুর্নামেন্টে আমি অংশ নিতে পারব না।’ উল্লেখ্য, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে ফরাসি ওপেন। পক্ষান্তরে ইউএস ওপেন শেষ হওয়ার তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর। এক্ষেত্রে ফরাসি ওপেনে অংশগ্রহণের বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন বার্টেন্স।

অন্যদিকে নিজে ঝুঁকি না নিতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র টেনিস অ্যাসোসিয়েশনকে টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিশ্বের পাঁচ নম্বর সিতোলিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমি জানি আয়োজকরা টুর্নামেন্টটিকে নিরাপদে অনুষ্ঠিত করার জন্য ভীষণ পরিশ্রম করছেন। আমি তাঁদের সম্মান জানাই। তবুও আমি সেদেশে যাওয়ার ব্যাপারে ঝুঁকি নিতে চাইনি।’ মঙ্গলবার একাধিক টুইটে যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে অংশগ্রহণের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন রাফা।

গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের নিরিখে ফেডেরারকে স্পর্শ করা থেকে মাত্র একধাপ দূরে দাঁড়িয়েও নাদাল বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে পরিস্থিতি ভীষণই উদ্বেগজনক। কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মনে হচ্ছে পরিস্থিতি বিন্দুমাত্র নাগালের মধ্যে আসেনি। তাই এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও বাধ্য হয়েই নিতে হচ্ছে। অনেক চিন্তা-ভাবনার পর চলতি বছর ইউএস ওপেনে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি।’

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা