চেন্নাই: ভারতে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক হারে কমে গিয়েছে এই দেশজুড়ে লকডাউনের প্রভাবে । এত কম বিদ্যুতের চাহিদা দেখা গিয়েছিল পাঁচ বছর আগে ২০১৫ সালের মার্চে। করোনাভাইরাস আটকাতে এই লক ডাউনের ফলে শনিবারের বিদ্যুতে ক্ষেত্রের তথ্য তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষিত দেশজুড়ে ২১ দিনের লকডাউনের তৃতীয় দিন ২৭ মার্চে ভারতের বিদ্যুৎ লেগেছে ২.৫৯ বিলিয়ন ইউনিট। যা লকডাউন শুরু হওয়ার আগে এই মার্চ মাসের প্রথম তিন সপ্তাহের গড় বিদ্যুৎ খরচের চেয়ে এক-চতুর্থাংশ কম।

দেশের বিদ্যুতের খরচ ২০১৫ সালের পয়লা মার্চের চেয়ে কম, তখন দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা এখনকার থেকে ২৫ শতাংশ কম ছিল। লক্ষ্য করা গিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের তিনটি রাজ্য ছাড়া দেশের সব অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা কমে গিয়েছে। কারণ অত্যাবশ্যকীয় কিছু কাজকর্ম ছাড়া অফিস এবং কল-কারখানা বন্ধ রয়েছে।

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, খনি ও কারখানায় বেশ কিছু অত্যাবশ্যকীয় শিল্পকর্ম চলছে যেমন ওড়িশা এবং ঝাড়খন্ডে ।‌ কারণযেখানে ইস্পাত উৎপন্ন হয় সেখানে উচ্চ হারে বিদ্যুৎ লাগে। কিন্তু বিহার যেটি মূলত কৃষি প্রধান এবং আপেক্ষিক ভাবে শিল্প কম সেখানেও গড় বিদ্যুতের খরচের চেয়ে এখন বেশি হওয়াটা চিন্তার বিষয় ।‌‌‌‌‌‌‌ এইজন্য সংশয় দেখা দিয়েছে ঠিকমতো শাটডাউন সেখানে মানা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে। তবে তুলনায় উষ্ণতা বাড়ায় গৃহস্থালির বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ব্যাপারে অবশ্য বিহার স্টেট পাওয়ার হোল্ডিং কোম্পানি কাছ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে গাড়ি উৎপাদনকারী রাজ্য মহারাষ্ট্র এবং তামিলনাড়ুতে দেখা গিয়েছে বিদ্যুতের ব্যবহার প্রায় ২৬ শতাংশ কমে গিয়েছে। অন্যদিকে মার্চ মাসের প্রথম তিন সপ্তাহের গড়ের তুলনায় পশ্চিম ভারতের রাজ্য গুজরাতে বিদ্যুতের চাহিদা কমে গিয়েছে ৪৩ শতাংশ।

এদিকে এই দেশজুড়ে লক ডাউনের কারণে পশ্চিমবঙ্গেও বিদ্যুতের চাহিদায় প্রভাব পড়েছে। যেমন মেজিয়ায় গড়ে ২৫০০-২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হত সেখানে এখন উৎপন্ন হচ্ছে ৪০০-৪৫০ মেগাওয়াট। গত বুধবার থেকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েকটি ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে। ‌ আপাতত দুটি ২৫০ মেগাওয়াটের ইউনিট কাজ করছে। কর্মীরাও চরম সতর্কতার মধ্যে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।