শেখর দুবে, কলকাতা:  বিষ্ণুপুরের তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁ সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন৷ ৯ জানুয়ারি দিল্লিতে বিজেপি যোগ দেওয়ার পর সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন৷ এই ঘটনার চারদিনের মাথায় দুষ্কৃতীরা তান্ডব চালাল সৌমিত্র খানের শ্বশুরবাড়িতে৷ পাশাপাশি সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া সৌমিত্রর শ্বশুরবাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ৷

বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়াতে থাকেন প্রাক্তন ব্যাংক কর্মী আশিস মন্ডল৷ তাঁর আরএকটি পরিচয় তিনি প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এর শ্বশুর৷ সৌমিত্র দলবদল করার পর তাঁর বড়জোড়ার শ্বশুরবাড়িতে অজ্ঞাত পরিচয় কিছু লোকজন তান্ডব চালায়৷

আশিস মন্ডল kolkata24x7-কে জানান, ‘‘আমার মা মারা যাওয়ার জন্য কয়েকদিন গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম৷ ১৩ তারিখে বড়জোড়াতে ফিরে দেখি বাড়িতে বড় বড় পাথর ছোঁড়া হয়েছে৷ জানালার কাঁচ ভেঙে গিয়েছে৷ সঙ্গেই বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের লাইনটি কারা যেন কেটে দিয়েছে৷ এরপর আমি বড়জোড়া ইলেকট্রিসিটি অফিসে পুরো ব্যাপারটা জানাই৷ ওরা ১৪ তারিখ তার জুড়ে দেয়৷ ১৫ জানুয়ারি অর্থাৎ পরের দিন অবধি আমার বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল৷’’

তিনি আরও জানান, ‘‘১৬ তারিখে আবার আমার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ কাটা হলে আমি বড়জোড়া ইলেকট্রিসিটি অফিসে যাই৷ ওখান থেকে আমাকে বলা হয় উপরমহলের নির্দেশ আছে আমরা কিছু করতে পারবো না৷ এরপর আমি ফিরে আসি পরে এখানকার কয়েকজন বিজেপি নেতা আমাকে সাহায্য করলে ১৭ তারিখ সাড়ে আটটা নাগাদ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়৷ তবে ওই দিন রাত ১১টার সময় আবার আমার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগের তার কেটে দেওয়া হয়৷’’

অবসরপ্রাপ্ত বয়স্ক আশিস মন্ডল আক্ষেপের সুরে জানান, সদ্য মাকে হারিয়েছি এমনিতেই আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত৷ কোনও রকম রাজনীতির সঙ্গে আমি জড়িত নই৷ বাড়িতে স্ত্রী রয়েছেন, তার শরীরও খুব একটা ভালো যায় না৷ আমার জামাই সৌমিত্র তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গেছে তারপর থেকে আমাকে এই সব সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে৷

বাবা-মার সঙ্গে বড়জোড়ার বাড়িতে রয়েছেন সৌমিত্র খাঁ এর স্ত্রী সুজাতা মন্ডল খান৷ পুরো বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ এবং হতাশা উগরে দিলেন তিনি বলেন, ‘‘বাড়িতে যে মাপের পাথর ছোঁড়া হয়েছে সেগুলির একটির আঘাত লাগলে বাবা মা আর বাঁচতেন না৷ ওরা জেনে বুঝেই এই সব করেছে৷ আমার স্বামী তৃণমূলের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত দল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছে তাই বাবা মা কে টার্গেট করা হচ্ছে৷’’

শ্বশুরবাড়ির উপর এই ধরণের আক্রমণে বিরক্ত সৌমিত্র বলেন, ‘‘শুধু এই রাজ্যেই নয়, অন্য রাজ্যেও অনেকের শ্বশুরবাড়ি রয়েছে৷ কিন্তু কখনও কাউকে রাজনীতির জন্য এতটা নিচে নামতে দেখিনি৷ রাজনৈতিকভাবে আমাকে চাপে ফেলতে না পেরে তৃণমূল এখন এসব করছে৷ বিদ্যুৎ অফিস বলছে উপরমহল থেকে চাপ আছে, তাই তারা কাজ করতে পারছে না৷ এই উপরমহলটা কে? এটা কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? নাকি হরিদাস পাল ভাইপো? শুনেছি ভাইপোর শ্বশুরবাড়ি দিল্লিতে৷ সেখানে তো কোনরকম অসুবিধের মধ্যে পড়তে হয় না৷’’

বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি এই বিষয়ে এখনও কিছু জানি না৷ খোঁজ নিয়ে দেখছি৷’’ আশিস মন্ডলের অভিযোগের কথা বলে বড়জোড়া ইলেকট্রিসিটি অফিসে ফোন করা হলে সেখান থেকে বলা হয়, ‘‘উনি (আশিস মন্ডল) একবার আমাদের অভিযোগ জানিয়ে ফোন করেছিলেন৷ আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত করে দিয়েছিলাম এরপরের ঘটনা জানা নেই৷ এই মুহুর্তে অফিসে ম্যানেজাররা কেউ নেই আপনি পরে ফোন করুন৷’’