স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর:  মাথায় হাত পড়েছিল, যখন দুটো লাইট আর একটা ফ্যানের জন্য পেয়েছিলেন দুলক্ষ টাকার ইলেকট্রিক বিল৷ হইচই পড়ে গিয়েছিল৷ খবর প্রকাশিত হয়েছিল সংবাদমাধ্যমে৷ তারপরেই টনক নড়ে বিদ্যুত দফতরের৷ বুধবার সংশোধিত বিল তুলে দেওয়া হল দু:স্থ ওই পরিবারের হাতে৷

ফরাক্কার জয়রামপুর এলাকায় মা মেয়ের সংসার৷ বিড়ি বেঁধে কোনও রকমে চলে যায়৷ তাদের কাছে পৌঁছে যায় ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪৭ টাকার ভুয়ো ইলেকট্রিক বিল৷ অবশেষে গণমাধ্যমের খবরের জেরে টনক নড়ল বিদ্যুৎ দফতরের৷

বুধবার বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকরা ভুয়ো ইলেকট্রিক বিল সংশোধন করে দিলেন৷ ১১৮ টাকা করে তিন মাসে ৩৫৪ টাকা বিল তুলে দেওয়া হল পরিবারের হাতে৷ আসল বিল পেয়ে খুশি হোসনারা বিবি৷ এরপর কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন হোসনারা বিবি ও তাঁর মেয়ে৷

ভুয়ো বিলের বিপাকে পড়ে পথে বসার মত অবস্থা হয়েছিল হতদরিদ্র পরিবারের হোসনারা বিবির৷ মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার জয়রামপুর এলাকায় মেয়েকে নিয়ে কোনও রকমে সংসার চালান তিনি৷ স্বামী আলম শেখ প্রায় ১২ বছর ধরে নিখোঁজ। এক চিলতে ঘরে মেয়েকে নিয়ে থাকেন হোসনারা৷ বাড়িতে মেয়ে বিড়ি বেঁধে কোনও রকমে তাদের সংসার চালান। বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে নিখোঁজ আলম শেখের নামে।

সব ঠিকঠাকই চলছিল। হঠাৎ করে তাদের সংসারে আঁধার নেমে আসে৷ বিদ্যুৎ কর্মী এসে তাদের হাতে ধরিয়ে দেয় বিশাল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল। যার পরিমাণ ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪৭ টাকা। এতদিন পর্যন্ত তাদের এক চিলতে ঘরে একটি মাত্র পাখা ও দুটি লাইট জ্বলে৷ বিদ্যুৎ বিল আসতো ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা মতো। কিন্তু হঠাৎ করে এই বিপুল পরিমাণ ভুয়ো বিলের বোঝা চেপে যায়৷

 

হোসনারা বিবি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ৷ মেয়ে বিড়ি বেঁধে যে টুকু টাকা উপার্জন করে তা দিয়েই তাদের মায়ের চিকিৎসা ও সংসার  চলে৷ এই বিল পেয়ে কী করবেন তাঁরা বুঝে উঠতে পারছিলেন না৷ অবশেষে সমস্যার সমাধান হল৷