স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: অবশেষে ভোগান্তির অবসান হতে চলেছে বালুরঘাটবাসীর৷ মান্ধাতা আমলের সিগন্যাল ব্যবস্থাকে চির বিদায় জানিয়ে আসতে চলেছে নয়া সিগন্যাল পদ্ধতি৷ যা একেবারেই বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে কাজ করবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ৷

বহুদিন থেকেই বালুরঘাটবাসীর এই অনুরোধ৷ তবে অবশেষে সেই অনুরোধে কর্ণপাত করায় রেল কর্তৃপক্ষের প্রতি খুশি এলাকাবাসী৷ তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদও জানিয়েছেন বালুরঘাটবাসী৷

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে সোমবার থেকে ট্রেনে চেপে বালুরঘাট পৌঁছতে সময় অনেকটাই কমে যাবে বলে দাবী রেল কর্তৃপক্ষের৷ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও রেল মানচিত্রে স্থান ছিল না এই স্টেশনের। অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের আমলে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টায় শুরু হয় একলাখী-বালুরঘাট রেল প্রকল্পের কাজ। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের শেষ নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে বালুরঘাট পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

বালুরঘাট তথা দক্ষিণ দিনাজপুরের মানুষ ট্রেন পরিসেবা পেলেও দুর্ভোগের শেষ ছিল না। কারণ দেশের মধ্যে একমাত্র গাজল থেকে বালুরঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ এই লাইন ছিল সিগনাল বিহীন। ব্রিটিশ আমলের হ্যান্ডপ্লাঞ্জা ওঠা নামা করিয়েই বালুরঘাট স্টেশন পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইনে ট্রেন চলাচল করত৷ বর্তমানে কোনও প্রকার সিগনালিং ব্যবস্থা না থেকেও লাইনে সারাদিনে পাঁচটি ট্রেন চলাচল করে থাকে। বালুরঘাটের মানুষ বহুদিন ধরেই ইলেক্ট্রিক সিগনালিং ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

অবশেষে শনিবার রাত থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বালুরঘাটে হ্যান্ডপ্লাঞ্জা হটিয়ে শুরু হয় অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক সিগনালিং-এর কাজ। সোমবার দুপুরে বৈদ্যুতিক সিগনালিং-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের আধিকারিকরা। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সিগনালিং-এর কাজের জন্য সোমবার সকাল থেকে সারাদিন বালুরঘাট পর্যন্ত রেল পরিসেবা বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে যথারীতি পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেও রেল কর্তৃপক্ষ তরফে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের তরফে আরও জানা গিয়েছে যে সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটার ডাউন তেভাগা এক্সপ্রেস বালুরঘাট স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর আর কোনও ট্রেন সারাদিনে চলবে না। শুধুমাত্র সোমবার বালুরঘাট-হাওড়া ও গৌড় এক্সপ্রেস, মালদা টাউন ও বালুরঘাট-শিলিগুড়ি ইন্টারসিটি একলাখী স্টেশন থেকে চলাচল করবে।