সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বিদ্যুৎ নিয়ে শহর জুড়ে হইচই। বেশিরভাগ স্থানেই অভিযোগ পরিষেবা বন্ধ থাকার। ঝড় যাওয়ার পরে তিন দিন কেটে গিয়েছে। প্রায় ৭২ ঘন্টা বিদ্যুৎ পরিষেবা না পেয়ে বিক্ষোভ বাড়ছে। আমফান যাওয়ার পর বেড়েছে গরমও। এতে বিরক্তি আরও বাড়ছে মানুষের। বিদ্যুৎকর্মীরা বলছেন ওঁদের একটু সময় দিতে।

পলাশ নন্দী নামে এক বিদ্যুৎকর্মী জানালেন, ‘আমি যে পোস্টে আর যে ক্যাপাসিটিতেই চাকরি করি না কেন, দিনের শেষে আমি একজন ইমার্জেন্সি এমপ্লয়ী। আমি বিদ্যুৎকর্মী। বিশ্বাস করুন, গত কয়েকদিন আমাদের দফতরের কেউ ঘুমোয়নি। আমাদের মোবাইল ভ্যানস, রেস্টোরেশন টিম দিন রাত এক করে ফিল্ডে আছে।’

ধীরেন দাস নামে এক বিদ্যুৎকর্মীর আর্তি, ‘প্লিজ বুঝুন, দুই পরগণা ধ্বংসস্তুপ হয়ে গিয়েছে। ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলা। প্রতি কিলোমিটারে গড়ে সাতটা করে গাছ পড়ে আছে। গুনে শেষ করা যাবে না এত পরিমাণে ইলেকট্রিক পোল ভেঙে পড়ে আছে সর্বত্র৷ যেগুলো দাঁড়িয়ে আছে সেগুলোর বিশাল শতাংশ ড্যামেজড। অগুন্তি জায়গায় ট্রান্সফরমারে দাউদাউ করে আগুন লেগেছে। এমতাবস্থায় যদি পাওয়ার চার্জ করা হয়, মুড়িমুড়কির মতো মানুষ মরে পড়ে থাকবে বলে দাবি ওই বিদ্যুৎ কর্মী। তাঁর মতে, জমা জলে, ছেঁড়া তারে যে পরিমাণ ইলেকট্রিকাল অ্যাক্সিডেন্টস হবে, তা ধারণার বাইরে।

ধীরেনবাবু বলেন, বাড়ি ঘরদোর আর ইন্টারনাল ওয়্যারিংগসের যে ক্ষতি হয়েছে তা বাদই দিলাম। এটা ইলেকট্রিক্যাল নেটওয়ার্ক, সাপের ছোবলের মতো ভয়ানক একটা ব্যাপার।

সমীর দেবনাথ নামে আরেক বিদ্যুৎকর্মী জানাচ্ছেন, ‘রাজ্যজুড়ে এই ভাস্ট ইলেক্ট্রিকাল নেটওয়ার্কটা যেভবে লণ্ডভণ্ড হয়েছে তা আগের জায়গায় রেস্টোর করতে যতদিন লাগা উচিত, আমরা সবাই জানি ততদিন আপনারা আমাদের দেবেন না। জল, আলো, চার্জ, ইন্টারনেট না থাকায় অনেকেই অস্থির হয়ে উঠেছেন। স্বাভাবিক। কিন্তু বুঝুন যারা কাজ করছে নাওয়াখাওয়া ভুলে তারাও মানুষ, তাদেরও পরিবার, সংসার আছে, এবং লিখে রাখুন এই রেস্টোরেশন প্রসেসে তাদেরও অনেকে প্রাণ হারাবে। সামান্য ভুলে পোলের মাথায় কাজ করতে করতে ঝরে পড়বে মৃতদেহ। এটা হয়, এটাই হয়েই থাকে।’

অনেকে আবার নিজের বাড়ির অসহায়তার কথা জানিয়ে বলছেন, ‘ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অফিসে চড়াও হওয়া শুরু হয়েছে। টেবিল চেয়ার উল্টে মারধোর করা হচ্ছে কারেন্ট নেই বলে। মার খাচ্ছে কর্মীরা। ঝড়ে আমার নিজের বাড়িতে এখনও চুরমার হয়ে থাকা কাচ পড়ে আছে সর্বত্র। জল নেই। সেসব অ্যাড্রেস করার সময়ও নেই। আমরা সহানুভূতি চাইনা, শুধু একটু বুঝুন, সহযোগিতা করুন। একটু কষ্ট সহ্য করে নিন। অন্তত নিজেদের প্রাণের স্বার্থে। ‘

খোদ মুখ্যমন্ত্রীও মানুষকে শান্ত থাকার আবেদন করেছেন। জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ কর্মীদের কাজ করতে দিন। কিন্তু তাতেও কি সমস্যার সমধান হয়! ক্ষোভ বাড়ছেই…।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV