শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : চোখের ওপর দিয়ে ৫ দফা নির্বাচন শেষ হয়ে গেলো। অশান্তির আবহেই রাজ্যে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম থেকে পঞ্চম দফার ভোট হয়েছে । নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা সূচি অনুযায়ী বাকি রয়েছে আরও তিন দফার নির্বাচন । ২২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাজ্যে ষষ্ঠ দফার নির্বাচন হতে চলেছে। করোনার প্রবল সংক্রমণের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ষষ্ঠ দফার নির্বাচন হতে চলেছে এবার । বৃহস্পতিবার চারটি জেলার ৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন। এর পর সপ্তম ও অষ্টম দফার নির্বাচন হবে যথাক্রমে ২৬ ও ২৯ এপ্রিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্তদের মধ্যে এই সময়ের মধ্যে ২জন নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত কর্মচারী, ২ জন সেক্টর অফিসার, ২ জন ইন্সপেক্টরসহ ৮ জন পুলিশকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

ষষ্ঠ দফায় পূর্ব বর্ধমানের ৮টি বিধানসভা, উত্তর ২৪ পরগনার ১৭টি বিধানসভা, উত্তর দিনাজপুরের ৯টি বিধানসভা, এবং নদিয়ার ৯টি বিধানসভায় নির্বাচন হবে । জেলাওয়ারি প্রার্থী রয়েছেন উত্তর দিনাজপুরের ৭২ জন, উত্তর ২৪ পরগনায় ১২৬ জন, পূর্ব বর্ধমান ৪৩ জন, নদীয়া জেলায় ৬৫ জন। এই চারটি জেলায় মোট ৩০৬ জন প্রার্থী ষষ্ঠ দফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ষষ্ঠ দফায় পোলিং বুথের সংখ্যা ১০, ৮৯৭টি। ভোট গ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭টা থেকে। চলবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত। করোনা বিধি মেনেই নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রতিটি বুথে চলবে বলে নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে।

২২ এপ্রিল যে ৪৩টি বিধানসভা আসনে নির্বাচন হবে সেই বিধানসভা কেন্দ্রগুলি হল

চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, করণদিঘি, হেমতাবাদ (এসসি), কালিয়াগঞ্জ (এসসি), রায়গঞ্জ, ইটাহার, করিমপুর, তেহট্ট, পলাশিপাড়া, কালিগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, কৃষ্ণনগর উত্তর, নবদ্বীপ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, বাগদা (এসসি), বনগাঁ উত্তর (এসসি), বনগাঁ দক্ষিণ (এসসি), গাইঘাটা (এসসি), স্বরূপনগর (এসসি), বাদুড়িয়া, হাবড়া, অশোকনগর, আমডাঙা, বীজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া, বারাকপুর, খড়দহ, দমদম উত্তর, ভাতার, পূর্বস্থলী দক্ষিণ, পূর্বস্থলী উত্তর, কাটোয়া, কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম (এসসি), গলসি (এসসি)।

ষষ্ঠ দফার নির্বাচন নির্বিগ্নে পরিচালনা করার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সবরকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে । পোলিং স্টেশনে মাইক্রো অবজারভার, বুথে সিসিটিভি’র নজরদারির ব্যবস্থা , ভোট কেন্দ্রে ভিডিও ক্যামেরার ব্যবস্থা , ভিডিওগ্রাফির জন্য ১৫৬৬ টা ওয়েব ক্যামেরার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভোট গ্রহণ ব্যবস্থা পরিচালনা করা হবে। প্রতিটা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ২০০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত থাকবে ১৪৪ ধারা জারি থাকছে বৃহস্পতিবারও । ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের যাতায়াত ছাড়া সাধারণের যাতায়াতের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় ফেরি সার্ভিস পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে ভোট দাতাদের সামাজিক দূরত্ববিধি ও মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে নির্বাচন কমিশন।

৩০৭২ টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের প্রত্যেকটি বুথের জন্য ৪ জন করে সিআরপিএফ জওয়ান কর্তব্যরত থাকবেন। তেমনই দুটো বুথের ক্ষেত্রে ৮জন এবং ৫- ৮টি বুথের জন্য ১২ জন করে জওয়ান মোতায়েন থাকছে । প্রত্যেকটি পোলিং স্টেশনেই ১ জন করে রাজ্য পুলিশ কর্মী কর্তব্যরত থাকছেন। সমগ্র ভোট প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ১৬৩ কোম্পানি সিআরপিএফ জওয়ান মোতায়েন থাকছে ষষ্ঠ দফায়। ৫০০০ জন রাজ্য পুলিশ ও ১৪ হাজার ভোট কর্মী ষষ্ঠ দফার নর্বাচন পরিচালনায় থাকছেন। অতি স্পর্শকাতর’ বুথে বিশেষ বাহিনীর-র ব্যবস্থা থাকবে বলেও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও ধারাবাহিক নাকা চেকিং, ভোটারদের উৎসাহ আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির উদ্দেশ্যও বিশেষ টিম সব সময় কাজ করছেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.