শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত: ২০২১-এর নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই “কাজ করতে পারছি না, কাজ করতে চাই,” এই কথা বলে তৃণমূলের বহু নেতা,মন্ত্রী,সাংসদ, বিধায়ক দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাই “কাজ”-ই যে এবারের নির্বাচনের প্রথম স্লোগান হবে সেটা বোঝাই যাচ্ছিলো। এবার নির্বাচনের স্লোগানগুলো বিভিন্ন দলের তরফে জনতার দরবারে এসেছে। সবার স্লোগানেরই এক কথা, “মানুষের ভালো করতে চাই।, কাজ করতে চাই।” তার পাশে রয়েছে মজার মজার সব স্লোগান।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল এবারের নির্বাচনী স্লোগানে এগিয়ে। তাদের স্লোগান, “খেলা হবে।” এক কথায় এই “খেলা হবে” স্লোগান হিট করেছে এবারের নির্বাচনে। এর পরেই আছে সিপিএম-এর “টুম্পা সোনা।” তৃণমূলের সভা, রোড শো, মিছিলে বাজছে, “খেলা হবে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সবাই রোজ সভা শেষে বলছেন, “কী মা, বোনেরা, খেলা হবে তো?” সভায় উপস্থিত জনতার দিক থেকে সমস্বরে উত্তর আসে, “হ্যাঁ, খেলা হবে।”

এদিকে বিজেপি-র এই নির্বাচনের স্লোগান হচ্ছে, “বিকাশ হবে, সোনার বাংলা হবে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে বলছেন, “দিদি বলছেন খেলা হবে, বিজেপি বলছে বিকাশ হবে।” তৃণমূল আবার প্রধানমন্ত্রীর এই “বিকাশ হবে”, “সোনার বাংলা হবে”, স্লোগান শোনার পর তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, “আগে সোনার ভারত বানান, সোনার উত্তর প্রদেশ বানান, যে সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আছে সেই রাজ্যগুলিকে সোনার রাজ্য বানান। তারপর সোনার বাংলা বানাবেন।”

এবার নিজেদের খোসাসহ ছেড়ে বার হয়ে এসেছে সিপিএম। তরুণ প্রজন্মের কাঁধে ভোর করে এবার সিপিএম “টুম্পা সোনা”, গানের সুর অবলম্বন করে বিজেপি ও তৃণমূলের প্রতিশ্রুতিভঙ্গের বিষয়গুলি ছন্দে বেঁধে স্লোগান বানিয়েছে। এই “টুম্পা সোনা” স্লোগান দিয়ে ব্রিগেড ভড়িয়েছে সিপিএম। তারপর আবার সেই “টুম্পা সোনা” স্লোগানকে নির্ভর করে ভোট দিতে যাওয়ার প্যারোডি গান বেঁধেছে সিপিএম।

তবে কাদের স্লোগান হিট করলো, জনগণ কাদের কাছে টেনে কাদের দূরে সরিয়ে দিলো সেটা বোঝা যাবে ২ মে, রবিবার। কেননা সেদিন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হবে। সেদিনই বোঝা যাবে মানুষ কার স্লোগান মনে রেখেছিল আর কার স্লোগান মনে রাখেনি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.