নিউজডেস্ক, কলকাতা: তৃতীয় দফা ভোটের আগে বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। ভোটের মুখে সরিয়ে দেওয়া হল মালদহের পুলিশ সুপার অর্নব ঘোষকে। একসময় এই আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে সারদা কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছিল।

আগামী মঙ্গলবার তৃতীয় দফার ভোট রয়েছে। ভোট রয়েছে মালদহ উত্তর এবং দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র, মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর এবং বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে। এই পাঁচ লোকসভা আসনের মধ্যে সবথেকে স্পর্শকাতর মালদহ উত্তর এবং দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র।

বিশেষত মালদহ বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন হওয়াতে বিশেষ নজর রয়েছে কমিশনের। আর সেখানে মালদহের পুলিশ সুপার অর্নব ঘোষের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে সরব কমিশনের পর্যবেক্ষক থেকে বিরোধী শিবির। পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পরেই তাঁকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।

সারদা-কাণ্ডের তদন্ত শুরু হওয়ার সময় বিধাননগর কমিশনারেটে ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই শুরু হয় তদন্ত। বিরোধীরা অর্ণব ঘোষের সঙ্গে প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ করেছিলেন। পরে তাঁকে নদিয়ার পুলিশ সুপার পদে নিয়ে যাওয়া হয় ও সেখান থেকে মালদা। গত বছর সিবিআই সারদা তদন্তের জন্য তাঁকে জেরাও করে।

মালদহের নয়া পুলিশ সুপার হচ্ছেন অজয় প্রসাদ। যিনি বারুইপুরের পুলিশ সুপার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। সম্ভবত আজ শনিবারই মালদহের পুলিশ সুপারের দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছেন অজয় প্রসাদ। সুষ্ঠ এবং অবাধ ভোট করতে কমিশনের এহেন বড় পদক্ষেপে খুশি বিরোধীরা। মালদহ উত্তরের কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খানের বক্তব্য, আগেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ ছিল। তবে দেরিতে হলেও কমিশনের সিদ্ধান্তে খুশি আমরা। ইশার মতো কেন অর্নব ঘোষের বিরুদ্ধে আগে কমিশন কেন ব্যবস্থা নেওয়া হল না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুজন চক্রবর্তীও।

অর্নব ঘোষ অন্তত্য সরকার ঘনিষ্ঠ একজন। ফলে প্রভাব পড়তে পারে ভোটে। এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল বিরোধীরা। এই মর্মে কমিশনকে তথ্যও দেয় বিরোধী। শুধু তাই নয়, কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্নব ঘোষের বিরুদ্ধে কমিশনের মালদহের পর্যবেক্ষকরাও একাধিক রিপোর্ট দেয়। ভোটের আগে মালদহের দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয় কমিশনের পর্যবেক্ষকরা। কিন্তু সেই নির্দেশ অর্নব ঘোষ কানেই তোলেনি বলে অভিযোগ। এরপরেই তাঁর বিরুদ্ধে রিপোর্ট যায় কমিশনে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই অর্নব ঘোষকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কমিশনের।