নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতাঃ  নির্বাচনী কাজে নামার আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা চেয়ে বিক্ষোভ – অসন্তোষের খবর মিলছিল বিক্ষপ্তভাবে। ভোট কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা না পেলে ভোটের কাজে যাবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সংগঠনগুলি। সোমবার এই দাবিতেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সুনীল গুপ্তার দপ্তরে হাজির হন শিক্ষক শিক্ষাকর্মী ও শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সদস্যরা। ভোট কেন্দ্রে ভোট কর্মীদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, এমনটাই জানিয়েছেন তাঁরা।

ভোটের কাজে শিক্ষকদের অংশগ্রহন নতুন বিষয় নয়। প্রত্যেক নির্বাচনেই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি ভোটের কাজে লাগান হয় শিক্ষাকর্মীদের। কিন্তু এবার তাঁরা চেয়ে আসছেন, লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়া হোক। নচেৎ তারা নির্বাচনী কাজে যাবেন না। কারণ নির্বাচনী কাজে গিয়ে বিভিন্নভাবে বিপদের সম্মুখীন হতে হয় তাদের। প্রাণ হারানোর আশঙ্কা থাকে বলেও দাবি বিভিন্ন শিক্ষাকর্মী সংগঠনগুলির। যার অন্যতম কারণ নিরাপত্তার অভাব।

গতবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটের কাজে গিয়ে যে ভয়ানক অভিজ্ঞতা হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁরা এই নিরাপত্তা চান। পঞ্চায়েত নির্বাচন করাতে গিয়ে উত্তর দিনাজপুরে এক শিক্ষকের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। প্রকাশ্যে ভোট লুঠ হয়েছে। তাই তাঁরা চান অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এই দাবি জানিয়েই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন তাঁরা। এবার বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনেরই দাবি রয়েছে, ভোটের কাজে ডাকলে তারা যাবেন কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্বারা তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

নিজেদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সোমবার বেলা ১ টা থেকে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেল পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হন শিক্ষক শিক্ষাকর্মী ও শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সদস্যরা। পরে মিছিল শেষে সরাসরি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে গিয়ে দাবিপত্র পেশ করেন। সেখানেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে তাঁদের জানান হয়েছে, ” রাজ্যের ভোট কেন্দ্র গুলিতে দেওয়া হবে কেন্দ্র বাহিনীর নিরাপত্তা। সম্পূর্ণ ভাবে না হলেও সেই সঙ্গে উত্তর দিনাজপুর জেলায় থাকবে ৭০ – ৮০ শতাংশ কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা। ” এমনটাই জানিয়েছেন সংগঠনের অন্যতম সদস্য শাহিদুর রহমান।
ফলে, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কথায় আস্থা রেখে, তাঁরা এবার খুশি মনে ভোটের কাজে নামবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।