ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কড়া পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের৷ চতুর্থ দফার ভোটে রাজ্যের সব বুথেই তাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ তৃতীয় দফার ভোট পর্ব মিটতেই জানিয়ে দিলেন মুখ্য নির্বাচনী অধিকারীক আরিজ আফতাব৷
চতুর্থ দফার ভোটব আগামী দফায় ২৯ এপ্রিল৷ ভোট হবে বহরমপুর, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, বর্ধমান পূর্ব, বর্ধমান-দুর্গাপুর, আসানসোল, বোলপুর ও বীরভূম লোকসভায়৷ ওই সব কেন্দ্রের প্রতিটি বুথে ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিৎ করতেই কমিশনের এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে৷

নির্বাচনের শুরু থেকেই রাজ্যের বিরোধী দলগুলি অবাধ ভোটের জন্য ১০০ শতাংশ বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোটের আবেদন করেন৷ কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি৷ তমিশন জানায় প্রথম দফায় ৭০ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও বাকি অংশে নিরাপত্তা দেবে রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ৷ প্রথম দফায় ভোট ছিল কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে৷ কোচবিহারের ভোটে হিংসার ঘটনা ঘটে৷ বিরোধীদের অভিযোগের তির ছিল শাসক দলের দিকে৷

দ্বিতীয় দফায় দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জে ভোট ছিল৷ দার্জিলিং কেন্দ্রের চোপড়ায় শাসক বিরোধী হিংসার ছবি ধরা পড়ে৷ জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জ মোটের উপর শান্ত থাকলেও ভোটের চেনা বিক্ষিপ্ত হিংসার অভিযোগ কমিশনের দফতরে জমা পড়ে৷

আরও পড়ুন: রাজ্যে তৃতীয় দফার ভোট শান্তিপূর্ণ, দাবি অজয় নায়েকের

এরপর বিরোধী বিজেপি, বাম ও কংগ্রেসের তরফ থেকে সব বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোটের আবেদন জোড়াল করা হয়৷ ভোট কর্মীরাও নিরাপত্তার জন্য সিআরপিএফের দাবি জানিয়ে নানা জায়গায় বিক্ষোভ দেখান৷ কমিশন রাজ্যে তৃতীয় দফার ভোটে পাঁচ কেন্দ্রের ৯০ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করার ঘোষণা করে৷

আরও পড়ুন: ‘যোগী’ই প্রথম ভারতীয় যিনি ভোটে জিতলেন জাপানে

কিন্তু তাতেও অশান্তি এড়ানো যায়নি৷ মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও বালুরঘাট থেকে দফায় দফায় ভোট হিংসার খবর উঠে আসতে থাকে৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাঠগড়ায় ছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল৷ মুর্শিদাবাদের রানিতলা বালিগ্রামে ভোটকেন্দ্রের সামনেই সংঘর্ষ বাঁধে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে৷ সংঘর্ষের মাঝে পড়ে মৃত্যু হয় টিয়ারুল আবুল কালামের৷ মৃত টিয়ারুল কংগ্রেস কর্মী বলে জানা গিয়েছে৷ এই ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে কলকাতায় কমিশনের দফতর ঘেরাও করে প্রদেশ কংগ্রেস৷

যদিও ভোটে বাহিনীর অতি-সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল কংগ্রেস৷ কমিশন নিয়োজিত ভোটে রাজ্যের বিশেষ পর্যবেক্ষক অবশ্য এদিনের ভোটকে শান্তিপূর্ণ বলেই জানিয়ে দেন৷ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীকের কথায়, ওই ঘটনা নির্বাচন কেন্দ্রের বাইরের৷ তবে জেলা শাসকের রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্ত হবে৷

তৃতীয় দফার ভোট হিংসা থেকে শিক্ষা নিয়েই চতুর্থ দফায় নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করতে চাইছে কমিশন৷ সাত কেন্দ্রের প্রায় ৯৮ শতাংশ বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়ার কথা বলা হয়৷