স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তৃতীয় দফার ভোটের আগে পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। থানাস্তরে সাত পুলিশ অফিসারকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল। একই সঙ্গে বিষ্ণুপুরের এসডিপিওকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।সোমবার নির্বাচন কমিশন এবিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে৷

কমিশন জানিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জের আইসি সৈকত রায়, ফারাক্কার আইসি উদয় শংকর ঘোষ, সামসেরগঞ্জের এএসআই বিধান হালদারকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ উল্লেখ্য, ২৩ এপ্রিল, মঙ্গলবার রাজ্যে তৃতীয় দফার ভোট৷ যে পাঁচ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে তার মধ্যে মুর্শিদাবাদ রয়েছে৷

আরও পড়ুন: মমতার বাংলায় মোদী-শাহকে রোড শো’য়ের প্রস্তাব মুকুল দীলিপদের

মুর্শিদাবাদের তিন পুলিশ অফিসার ছাড়াও পশ্চিম বর্ধমান জেলার বারবনি থানার অজয় মণ্ডল, আন্দল থানার রাজশেখর মুখোপাধ্যায়, উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরের আইসি কৃষ্ণেন্দু ঘোষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুকমল দাসকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

এক নজরে দেখে নিন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি-

উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই সুকমল দাসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিলেন ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ৷ এক ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুকমল দাস সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী। যেভাবেই হোক সেই লক্ষ্য পূরণে তিনি আসরে নেমেছেন।

আরও পড়ুন: শুভ্রাংশুর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে মুখ খুললেন মুকুল

সেই কারণেই বিষ্ণুপুরের সাংসদকে টার্গেট করেছেন সুকমলবাবু। সাংসদের মতে, “আরামবাগ অথবা বিষ্ণুপুর থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হতে চাইছে সুকমল দাস। সেই কারণে আমাকে সরিয়ে দিতে চাইছে।” এমনকি তাঁর আপ্তসহায়ক সুশান্ত দাঁ ওরফে গোপিকে সুকমল দাস তুলে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন বিদায়ী সাংসদ৷

এর আগে মালদহ, নদীয়া, বর্ধমান এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপারকে বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। বদলি করা হয়েছে হুগলীর জেলাশাসককেও৷কমিশনের এই পদক্ষেপে রেগে আগুন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বিভিন্ন সভা থেকে কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তিনি৷ ফের পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদল হওয়ার স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ক্ষোভ আরও বাড়বে মনে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷