হাওড়া: গঙ্গা দূষণ প্রতিরোধে জনমানবে সচেতনতা গড়ে তুলতে পাটকাঠির নৌকা গড়ে আট যুবক পার করলেন ২১৩ কিলোমিটারের দীর্ঘ নদীপথ। নদীকে পরিচ্ছন্ন রাখতেই হবে এই বার্তা নিয়েই ৩৯ ফুট লম্বা এবং ৬ ফুট উঁচু পাটকাঠির একটি নৌকো বানিয়ে হলদিয়া থেকে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তাঁরা। এরপর টানা নয় দিন ধরে এই অভিযানের এসে পৌঁছান হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটে।

পাটকাঠি এবং বাঁশ দিয়ে নৌকা বানিয়ে আট জন গঙ্গায় ভেসে পড়েছিলেন গত ৭ তারিখ। এদের অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল গঙ্গাকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা। এর পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের প্রচারও ছিল তাদের অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। বাঁশের পাতলা অংশ দিয়ে তৈরি হয়েছিল নৌকোর কাঠামো। প্রায় প্রাণ হাতে নিয়ে এরা দুঃসাহসিক অভিযান শেষ করেছেন। দলের নেতা ছিলেন পুস্পেন সামন্ত।

তাঁরা জানান, এই সুদীর্ঘ যাত্রাপথে বহু ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের৷ যে ঘটনার কথা তারা কোনোদিন ভুলতে পারবেন না। নয়াচরের কাছে প্রায় প্রাণ হাতে নিয়ে তারা এবার বেঁচে ফিরেছেন। হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটে এসে তাদের অভিযান শেষ হয়। গঙ্গা বাঁচাতে পাটকাঠির তৈরি নৌকা নিয়ে অভিযান করলেন এই আট নাবিক। ১১৫ নটিকাল মাইল পার করে এরা হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটে এসে পৌঁছান। মূলত গঙ্গার দূষণ রোধে সচেতনতার বার্তা নিয়ে তারা গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে ঘাটে প্রচার চালান।

 

দলে ছিলেন পুষ্পেন সামন্ত, অসীম মণ্ডল, বিশ্বজিত মণ্ডল, আরশাদ আলি মণ্ডল, আমির হোসেন জামদার, বিশাল গোয়ালা, মোমোম আলি মণ্ডল ও শেখ হাসিম আব্দুল হালিম। হাসিম আব্দুল জানান, এই সুদীর্ঘ যাত্রাপথে বহু ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন তারা। এসেছিল বহু বাধা বিপত্তি। সম্মুখীন হয়েছেন ভয়ঙ্কর সব বিপদের। এইসব ঘটনার কথা তারা কোনোদিন ভুলতে পারবেন না।

‘বিপদে আমরা না যেন করি ভয়’ এই মন্ত্রে এগিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। নয়াচরের কাছে একটি জাহাজ এসে পড়ায় তাদের নৌকা প্রায় ডুবতে বসেছিল। একপ্রকার অলৌকিকভাবে নিয়ে তারা এবার বেঁচে ফিরেছেন। অবশেষে বিপদকে জয় করে পৌঁছেছেন তাঁদের অভীষ্ট লক্ষ্যে। নয়াচর থেকে শুরু করে এই যাত্রাপথে তাঁরা পাড়ি দিয়েছেন এড়েখালি, কোকরাহাটি, ফলতা, আছিপুর, বাটানগর, বোটানিক্যাল গার্ডেন হয়ে রামকৃষ্ণপুর ঘাট। অবশেষে ১১৫ নটিকাল মাইল পার করে অসম সাহসী এই আট যুবক হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটে এসে পৌঁছান৷