লখনউ: উত্তরপ্রদেশে একাধিক গরু মৃত্যুর ঘটনায় ৮ সরকারি আধিকারিককে বরখাস্ত করল যোগী আদিত্যনাথ সরকার৷ অযোধ্যা ও মিরজাপুর জেলায় দিন কয়েক আগেই বেশ কয়েকটি গরুর মৃত্যু হয়৷ তারপরেই এই কড়া সিদ্ধান্ত নেয় যোগী সরকার৷

সরকারি পরিচালিত গোশালায় এই গরুগুলির মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে৷ ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে৷ রীতিমত কমিটি গড়ে গোমৃত্যুর তদন্ত করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ৷ সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতা জারি করা হয় রাজ্যের অন্যান্য জেলায়৷ সরকার পরিচালিত গোশালাগুলির পরিকাঠামো ও ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার কড়া নির্দেশিকা জারি হয়৷

কেন গরুগুলি পরপর মারা যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করে কমিটি৷ সেই রিপোর্ট যায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে৷ তারপরেই ৮ সরকারি আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন যোগী আদিত্যনাথ৷

আরও পড়ুন : জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কায় ড্রেন সাফাই করতে নামলেন মেয়র পারিষদ

তবে রিপোর্ট বলছে, গাফিলতি নয়, বেশিরভাগ গরু মারা গিয়েছে বজ্রবিদ্যুৎ ও বৃষ্টিতে৷ তবে কিছু গরুর মৃত্যুর পিছনে অনাহার ও অপুষ্টির তথ্যও তুলে ধরেছে রিপোর্ট৷ ২০১৭ সালে যোগী আদিত্যনাথ ক্ষমতায় আসার পরে গোরক্ষা ও গোপালনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ সেই রাজ্যে এভাবে গরু মৃত্য়ুর ঘটনাকে যে কড়া নজরদারির মধ্যে ফেলা হবে, তা বলাই বাহুল্য৷

কয়েক মাস আগে রাস্তার গরুরা খেতের ফসল নষ্ট করছে বলে একাধিক অভিযোগ পায় সরকার৷ গ্রামবাসীরা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সেই গরুদের আটকে রেখেছে বলেও অভিযোগ ওঠে৷ তারপরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গোশালা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন যোগী আদিত্যনাথ৷

আরও পড়ুন : প্রাক্তন প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ মুম্বইয়ের অভিনেত্রীর

উল্লেখ্য শুক্রবার প্রয়াগরাজের কান্দি গ্রামের একটি অস্থায়ী গোশালায় প্রথম গোমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। জানা যায়, গোশালার অবস্থা খুব ভাল ছিল না। জোরে বৃষ্টি হচ্ছিল। আর খোলা জায়গায় থাকায় গরুগুলিকে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। সেই সময় বজ্রবিদ্যুত্‍‍-সহ বৃষ্টিতে মৃত্যু হয় তাদের। যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, গত দু’‌তিন দিনে প্রয়াগরাজে বজ্রবিদ্যুত্‍-সহ বৃষ্টিই হয়নি। উল্টে গোশালার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশই গরুগুলির মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, গরুগুলিকে ঠিক মতো খেতে দেওয়া হয় না। দেওয়া হয় না জলও।

স্থানীয় প্রশাসন সঠিক পরিসংখ্যান দেয়নি বলেও দাবি করেন তাঁরা। অভিযোগ, ৩৫টি গরুর মৃত্যু হয়নি। বরং সংখ্যাটা অনেক বেশি। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে, ভুয়ো তথ্য প্রকাশ করেছে প্রয়াগরাজ প্রশাসন। তবে প্রয়াগরাজে এক সঙ্গে এত সংখ্যক গরু মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। গত সপ্তাহেই কনৌজ জেলার জালালাবাদের একটি গোশালায় অনাহারে মৃত্যু হয় বেশ কিছু গরুর।