ঢাকাঃ  রক্তাক্ত সেই ইদ যাতে আর ফিরে না আসে তার জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ সরকার৷ দেশের সর্বত্র জারি হয়েছে কড়া নিরপত্তা৷ ঢাকার জাতীয় ইদগাহ ঘিরে অবস্থান নিতে শুরু করেছে জঙ্গি দমন বাহিনী৷ একইভাবে কড়া নজরদারির আওতায় পড়েছে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ইদগাহ৷ ২০১৬ সালের ৭ জুলাই এখানেই ইদের দিন হামলা করেছিল জঙ্গিরা৷ গুলির লড়াইয়ে রক্ত ঝরেছিল৷

বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ইদগাহ ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাতকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মাঠ ও আশপাশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। অতীতের সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে৷ এবার দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাড়ে তিন লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি জামাতে অংশ নেবেন৷

কোনও সন্দেহভাজন লোক যেন নিরাপত্তাবলয় অতিক্রম করে মাঠে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাঠের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য বোমা শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়করণ দল শোলাকিয়া মাঠে মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে ইতিমধ্যে অনুসন্ধান কাজ শেষ করেছে। পুলিশ সুপার মহ. মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, নিরাপত্তার কাজের যাবতীয় মালপত্র আসার পর মাঠ ও স্থানীয় এলাকায় বিশেষ নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন- উৎসবে জনগণের নিরাপত্তাই হবে হাসিনার স্বস্তিসূচক

তাছাড়া হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে মাঠের ২৮টি প্রবেশ পথে প্রত্যেককে তল্লাশির আওতায় আনা হয়েছে৷ ইদের আগের দিন থেকে শহরে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। সাদা পোশাকে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এবারে ইমামতি করবেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

এবারও কিশোরগঞ্জে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শোলাকিয়ায় নির্বিঘ্নে আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। শোলাকিয়া স্পেশাল সার্ভিস নামে একটি ট্রেন ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে থেকে এবং অন্যটি ভৈরব থেকে ৯টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছবে। উভয় ট্রেন দুটি দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ থেকে ভৈরব ও ময়মনসিংহের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।