কলকাতাঃ সোমবার খুশির ঈদ। কিন্তু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের খুশির ঈদ হলেও করোনা আতঙ্ক থাবা বসিয়েছে সেখানেও। আগামী ৩১ মে পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা রয়েছে দেশজুড়ে। যে কোনও ধরনের ধর্মীয় জমায়েতের উপর রয়েছে নির্দেশিকা। ফলে এই বছর বাড়িতে বসেই রাজ্যবাসীর কাছে ঈদ উৎসব পালনের অনুরোধ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ শনিবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশে বাড়িতে বসেই ঈদ পালন করার আবেদন করেন।

বলেন, ‘হাত জোড় করে অনুরোধ করছি ৷ আপনারা যদি আমাকে একটুও ভালবাসেন তো, আমার কথা শুনুন ৷ বাড়িতে থেকে আল্লাকে ডাকুন ৷’ শুধু তাই নয়, সংখ্যালঘু ভাইদের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, ঈদের নমাজের জন্য কোনও জমায়েত করা সম্ভব নয় ৷ তাই বাড়িতে থেকেই সবাইকে ইদের প্রার্থনা করার অনুরোধ ৷ লকডাউনের কারণে করোনা ঠেকাতে যেকোনও ধরনের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্র সরকার ৷

এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে সেই নির্দেশিকা দেখিয়ে মমতা বলেন,পয়লা বৈশাখ, চড়ক কোনও অনুষ্ঠানেই এই করোনা ও লকডাউনের কারণে বাড়ির বাইরে কেউই বেরতে পারেননি ৷ ঘরে থেকেই আপনারা একমাস ধরে রমজান পালন করেছেন ৷ এবার ঈদের উৎসবও ঘরেই পালন করার আবেদন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের।

তিনি আরও বলেন, মসজিদের মাইকে ঘোষণা শুনে ঘরে থেকেই আল্লার কাছে বিশেষ প্রার্থনা জানান ৷ একই সঙ্গে কিছুটা আক্ষেপ সুরই মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেন, আমিও প্রতিবছর ঈদের নমাজে যোগ দিই। কিন্তু এই বছর সম্ভব নয় বলে মন্তব্য তাঁর।

শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নয়, করোনার কারণে এবার ঈদ বাড়িতে বসেই করার কথা বলেছেন, দিল্লির জামা মসজিদের শাহি ইমাম সৈয়দ আহমেদন বুখারি। করোনা পরিস্থিতিতে সব গাইডলাইন মেনে চলার কথা বলেন তিনি। হাত মেলানো বা কোলাকুলি করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, সতর্কতা নেওয়া ও সোশ্যাল ডিসট্যান্স মেনে চলা খুবই জরুরি। সরকারের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।

এবার ঈদ অন্যান্যবারের তুলনায় আলাদা। রমজানও ছিল অনেকটাই অন্যরকম। মুসলিমরা বাড়িতে বসেই এবার ইফতার সেরেছেন। নমাজ পড়তেও বাইরে যাননি অনেকে। তাই, ইদেও এবার প্রথা মেনে একসঙ্গে নমাজ পড়া হয়ত হবে না। আগেই ইসলামের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র দারুল উলুম দেওবন্দ তাদের এক নির্দেশিকায় মুসলিমদের এবার নিজেদের ঘরের ভেতরেই ঈদ পালন করতে বলেছে। দেওবন্দ বলেছে, মহামারি ঠেকাতে এবারের ঈদে বড় জমায়েত থেকে দূরে থাকাই উচিৎ।