স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বৃষ্টিভেজা দুপুর৷ সঙ্গে যদি জুটে যায় লঞ্চে গঙ্গা-বিহার৷ আর পাতে গরম ইলিশের নানান পদ! তাহলে কেমন হয়? এমনই এক রবিবাসরীয় আমেজের সাক্ষী হতে চলেছে বাঙালির বর্ষা-যাপন। সৌজন্য পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগম৷

লঞ্চে চেপে গঙ্গার বুকে ঘুরতে ঘুরতেই সুস্বাদু ভোজ। সঙ্গে গান-হাসি-দেদার আড্ডা। নিগম আয়োজিত এক দিনের ইলিশ উৎসবের ভাবনাটা ছিল এমনই। ২০১৪ সাল থেকে লোক টানতে শুরু হওয়া এই উৎসবের জন্য এ বছর এই দিনটিই নির্ধারিত ছিল আগে থেকে। কাকতালীয় ভাবে সঙ্গে জুটে গেল দিনভর বৃষ্টি, আলসে-ঠান্ডা আবহাওয়া। ব্যস, জাঁকিয়ে বসল ইলিশ-মেজাজ! সোনালি রং ধরা ভাজা, মাছের তেল, ডিমভরা মাছ জিভে তখন আরও সুস্বাদু হয়ে উঠেছে। মুখে দিলে মাখনের মতো গলে যাচ্ছে সর্ষে ভাপা তুলতুলে ইলিশ!
কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ উৎসব নতুন কিছু নয়। রেস্তোরাঁ-রেস্তোরাঁয় বড় বড় করে লেখা থাকে ‘হিলসা ফেস্টিভ্যাল’। ক্লাব বা রাজনৈতিক নেতাদের ব্যবস্থাপনায় পাড়ায়-পাড়ায় ম্যারাপ বেঁধেও জমিয়ে চলে ইলিশ-পার্বণ। সেখানেই রাজ্যে সরকারের এই ইলিশ পার্বণ ধাঁচে-আমেজে খানিক আলাদা৷

খাদ্য রসিকদের জন্য বর্ষাকালের সেরা আকর্ষণ এখন ‘আহারে বাহারে ইলিশ’৷ আগামিকাল ২৭ অগস্ট, ইলিশ উৎসবের আয়োজন করেছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন নিগম। এটি হবে কলকাতার বাবুঘাট জেটি-তে। সময়, সকাল ১১টা থেকে দুপুর দু’টো পর্যন্ত৷ অনলাইনে টিকিট বুকিং করা সম্ভব হবে৷ মাথাপিছু খরচ ১৭০০ টাকা। গঙ্গা বক্ষে ভ্রমণের সঙ্গে সঙ্গে উপভোগ করা যাবে ইলিশের বিভিন্ন লোভনীয় পদ৷ অনলাইনে বুকিং করা যাবে WBTDCL ওয়েবসাইট থেকে৷ এছাড়া রয়েছে টোল ফ্রি নম্বর- ১৮০০২১২১৬৫৫৷

ইলিশের মরসুম শুরু হতেই ‘ইলিশ উৎসব’ শুরু হয়েছে অনেক জায়গায়৷ কিন্তু সেই উৎসবে টাটকা ইলিশ কতটা থাকছে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। রাজ্য মৎস্য দফতর থেকে শুরু করে মাছ চাষিদের একাংশও জানাচ্ছেন যে, হিমঘরে রাখা ইলিশ দিয়েই বেশিরভাগ জায়গায় উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে!

রাজ্য মৎস্য দফতর সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত সেই অর্থে ইলিশ শহরের বাজারে আসেনি। দিঘা, মন্দারমণি এলাকায় কিছু পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে ঠিকই, কিন্তু সার্বিকভাবে ইলিশের জোগান এখনও পর্যাপ্ত নয়। তবে মায়ানমার, মুম্বই থেকে কিছু পরিমাণ ইলিশ বাজারে এসেছে বলে দফতর সূত্রের খবর। মৎস্য দফতরের এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘‘এখনও ইলিশের সংখ্যা সন্তোষজনক নয়। তবে ইলিশের মরসুম সবে শুরু হয়েছে।’’ ফলে ইলিশ উৎসবগুলিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হিমঘরের ইলিশ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অনুমান মৎস্য দফতরের আধিকারিকদের একাংশের৷