কায়রো: ২০ বছরের জেল হল মিশরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুরসির। মঙ্গলবার প্যারলে মুক্তির সম্ভবনা উড়িয়ে দিয়ে মুরসিকে এই সাজা শুনিয়েছে মিশরের এক আদালত। বিভিন্ন মহল থেকে ধারণা করা হয়েছিল সম্ভবত মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া হবে মুরসিকে। তবে আব্দুল ফতেহ আলি সিসির সরকার পারিপার্শ্বিক অবস্থার জন্যই মৃত্যুদণ্ড এড়িয়ে গেলে বলে মনে করা হচ্ছে। গত রবিবার সরকার তরফে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, আগামী মঙ্গলবার মুরসির বিরুদ্ধে প্রথম রায় দেওয়া হবে। সেইমতোই এদিন রায় ঘোষণা করা হয়েছে মুরসির বিরুদ্ধে। ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের সামনে এক সংঘর্ষে তিন বিক্ষোভকারীকে হত্যা ও বেশ কয়েকজনকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে মুরসির বিরুদ্ধে। একই মামলায় মুরসি ছাড়াও আরও ১৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। এ মামলা ছাড়াও মুরসির বিরুদ্ধে আরও দুইটি মামলা রয়েছে। বৈদেশিক শক্তির পক্ষে গোয়েন্দাবৃত্তি এবং ২০১১ সালে মোবারকবিরোধী আন্দোলনে জেল থেকে পালানোর অভিযোগে ওই মামলা দুটি দায়ের করা হয়েছে। আগামী ১৬ মে বাকি মামলাগুলির রায় ঘোষণা হতে হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। মিশরে ২০১১ সালে জনতার আন্দোলনের মুখে পতন হয় তৎকালীন স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের। এরপর ২০১২ সালের মে মাসে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির নেতা মহম্মদ মুরসি।

২০১৩ সালের ৩ জুলাই মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতার দখল নেয় আব্দুল ফতেহ আলি সিসি নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী। ২০১৪ সালে এক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির প্রেসিডেন্টের পদে বসেন সিসি। প্রাক্তন এই সেনাপ্রধানের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতিমধ্যেই মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং দলটির সমর্থকদের মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘ-সহ বিভিন্ন সংস্থা সিসি সরকারের এই দমনমূলক কার্যক্রমের নিন্দা এবং মৃত্যুদণ্ড বাতিলের আবেদন জানিয়েছে।