স্টাফ রিপোর্টার, এগরা: একটা বিয়েবাড়ি। আর সেখান থেকেই ছড়াতে শুরু করে আতঙ্ক। সেই আতঙ্ক এখনও স্তিমিত হয়নি। এখনও শতাধিক আমন্ত্রিতকে আলাদা রাখা হয়েছে। তাঁদেরও পরীক্ষা হবে।

তাঁরা যাতে কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে না বের হতে পারে সেজন্য তাদের বাড়ির সামনে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। তবে এগরা যোগে আক্রান্ত তিনজনের কোনও বিদেশ যাত্রার ইতিহাস নেই। অর্থাৎ বিয়েবাড়ি থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাই চন্দ্র মন্ডল বলেন, “করোনা আক্রান্ত দুইজনকে বেলেঘাটা পাঠানো হয়েছে। বাকি যে ৫৭২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের আবার সোমবার পরীক্ষা করা হবে। তবে এখনও তাদের কারোর মধ্যে কোনো উপসর্গ পাওয়া যায়নি”। সোমবার ওই পরীক্ষা দিকে তাকিয়ে আছেন অনেকেই। সেখান থেকে কারও পজিটিভ এলে আশঙ্কা থেকে যাবে পরিবারগুলিতেও।

বিয়ে বাড়িতে আমন্ত্রিত ছিলেন প্রায় ৮৫০ অতিথি। সকলকে খুঁজে পাওয়ার জন্য গোটা এলাকা জুড়ে স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে মাইকিং প্রচার চালানো হয়। এরপর এগরার এক সরকারি স্কুলে অতিথিদের নিয়ে বসে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির। সেখানে যোগদানকারী ৫৭২ জনের মধ্যে কোনও রকম উপসর্গ দেখা না গেলেও তাদের স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। অপরদিকে ওই করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের সংস্পর্শে আসা নিকট ১৩ জন আত্মীয়কে এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়।

নয়াবাদের এক বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরই এগরার ওই বিয়ে বাড়ি নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। শনিবার আরও দু’জন করোনায় আক্রান্ত হন, যাঁরা ওই বিয়েবাড়িতে ছিলেন।

ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে রাজ্যের সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে জীবাণু মুক্ত রাখতে জল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে ভালো করে দিয়ে দিতে হবে।

সরকারের নির্দেশ মেনে এগরা পুরসভায় সেই কাজ শুরু হয়েছে। দমকলের কর্মীরা সেই কাজ করে চলেছে।

সম্প্রতি এগরায় বেশ কয়েকজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়। তাদের রক্ত সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে।

ফলে এলাকার মানুষের মাধ্যে ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য সদা সতর্ক প্রশাসন। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানিয় মানুষজন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ