File pic

লকডাউনে সবচেয়ে সমস্যায় কারিগরি শিক্ষা। কোভিড–১৯, বদলে দিল পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাটাই। সে সাধারণ পুঁথিগত শিক্ষাই হোক, কিংবা কারিগরি শিক্ষা। বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক হারে প্রভাব ফেলেছে কোভিড–১৯।

শুধু অর্থনীতি বলি কেন, এর মারাত্মক প্রভাবে মারাত্মক টালমাটাল বিশ্বের বিভিন্ন সেক্টর। সবচেয়ে খারাপ এবং প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছে বোধহয় প্রতিদিনকার পঠন পাঠন এবং বিভিন্ন ট্রেনিং। পঠন পাঠন বলতে, বিভিন্ন টেকনিক্যাল এবং ভোকেশনাল ট্রেনিং এর কথা বলছি।

বিভিন্ন টেকনিক্যাল কোর্সের যে ট্রেনিং পদ্ধতি রয়েছে, তা এই লকডাউনের জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কোনও টেকনিক্যাল কোর্স সময় মেনে ঠিক ভাবে না হলে এর প্রভাব পড়ে আরও বিশাল ক্ষেত্রে।

প্রথমত কোর্সে ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিতি ঠিক না হলে হাতে কলমে ট্রেনিংয়েরও সমস্যা হয়। যার প্রভাব পড়ে নির্দিষ্ট সময় মেনে পরীক্ষা? আর তার সঙ্গে জড়িত ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ। পুঁথিগত পড়াশোনার পাশে ছাত্র ছাত্রীরা বিভিন্ন ভোকেশনাল কোর্স ভর্তি হয়, নিজেদের কেরিয়ার ঠিক করার জন্য। কিন্তু কোভিড–১৯ এরপ্রভাব বিশ্বের অর্থনীতির মত ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যতকেও অনিশ্চিত রাস্তায় ঠেলেদিয়েছে।

এখান থেকে বাঁচার একটাই উপায় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। জর্জ টেলিগ্রাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মত সারা বছর ধরে কারিগরি শিক্ষার ট্রেনিং দেন যারা, সেই সব ইনস্টিটিউটই বদলে ফেলেছে তাদের শিক্ষা দানের পদ্ধতি। এই লকডাউনের মধ্যেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটাই ছিল ছাত্র–ছাত্রীদের সঙ্গে ইনস্টিটিউটের প্রতিদিনকার যোগাযোগ।

টেকনোলজির মারাত্মক উন্নতি সত্ত্বেও যে কোনও টেকনিক্যাল কোর্সে দূরত্ব রেখে শুধুই টেকনোলজির সাহায্য নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গেশিক্ষার্থীদের ক্লাস, এমনকী টেকনিক্যাল কোর্সের প্র‌্যাকটিক্যাল ট্রেনিং ভার্চুয়াল পদ্ধিতিতে দীর্ঘদিন বিকল্পশিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে গন্য হওয়া খুব কঠিন। যে কোনও হাতে কলমে কারিগরি শিক্ষাদানে শিক্ষার্থী এবংশিক্ষকদের মুখোমুখি আলাচনাটা খুবই জরুরি।

সাধারণত জর্জ টেলিগ্রাফের মত টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলির সামনে এ এক কঠিনলড়াই। সেরকম অন্ধকার অবস্থা থেকে আলোর পথদেখার জন্য লড়াই শিক্ষার্থীদেরও। সাধারণ কোর্সে গিয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার ঝুঁকি এড়ানোর জন্যই জর্জ টেলিগ্রাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মত ইন্সটিটিউটগুলিতে ভর্তি হন সাধারণ একটু পিছিয়ে থাকা শিক্ষর্থীরা।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্র‌্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের অভাবে তাঁদের মনেও হতাশা আসতে বাধ্য। সমস্যা হতে পারে ফের নতুন করে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বুদ্ধ করার। ফলে নিজের কেরিয়ার নিয়ে যে আশারআলো তাঁরা দেখছিল, হয়তো কেরিয়ার বদলের ভাবনাও আসছে তাঁদের মনে। সমস্যা শুধুই কি শিক্ষার্থীদের? তাঁরা কোর্স ফি না দিলে সমস্যা হবে ইনস্টিটিউটগুলির।

এর প্রভাব পড়বে শিক্ষকদের উপরেও। আর কারিগরি শিক্ষা এমন একটি বিষয়, যা অন্যসাধারণ কোর্সগুলির সঙ্গে মেলে না। যেখানে হাতে কলমে শিক্ষাদানটাই সবচেয়ে জরুরি। তবুও জর্জ টেলিগ্রাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মত কিছু প্রতিষ্ঠিতশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিজেদের মত করে লড়াই চালাচ্ছে শিক্ষার্থীদের সামনে আলোর দিশা দেখাতে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ