ফাইল ছবি

এস এম সাজু আহমেদ : গত কয়েকদিন আগে রাজশাহী শহরে দিনে দুপুরে চপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে৷ এর রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কলাবাগানে সেই দিনের বেলাতেই কুপিয়ে হত্যা করা হয় ইউএসএআইডির কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব রাব্বী তনয়কে। এরপর আবার নিজ দোকানে কাজ করার সময় খুন হতে হলো সংখ্যালঘু দর্জি নিখিলকে। এসকল হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে পবিত্র ঘর মসজিদে ঢুকে হত্যা করা মসজিদের ইমামকে। এরকম ভাবেই চলছে শুধু হত্যা আর হত্যার মহোৎসব।

dhaka-1এই মানুষগুলো কোন মতাদর্শের, কোন ধর্ম বা বর্ণের সেটা বড় কথা নয়, সবচেয়ে বড় কথা হলো তারা মানুষ, তারা কোনো সন্ত্রাসী, অপরাধী বা ডাকাত নয়। কিন্তু তারপরও তাদের খুন হতে হলো। কি অপরাধ ছিল তাদের? তাদের কি স্বাধীনভাবে পথ চলা, বেঁচে থাকার অধিকার ছিল না? তারা কি এমন কোনো অপরাধ করেছিল যেকারণে তাদের খুন হতে হলো? রাষ্ট্র কি তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ছিল? এমন নানা প্রশ্ন আমাদের মনে নাড়া দিলেও রাষ্ট্রের সম্মানিত কর্তারা এই সকল মানুষগুলোর হত্যাকে মনে হয় অনেকটা পশু হত্যার মত ইস্যু মনে করে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন দেশে আইএস আছে কি নেই সেটা বিশ্বের মোড়লদের কানে পৌঁছানোর জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টায়। প্রায় প্রতিদিন দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মানুষ হত্যার পরও দেশের আইনশৃঙ্খলা সুস্থ স্বাভাবিক রয়েছে তাহা জাহির করতে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, আমার সুখি জাতি, আমরা শান্তিপ্রিয় জাতি, এমন সুন্দর সুন্দর বাণী জোর করে কর্ণকুহরে ঢুকিয়ে দেয়ার মহা কষ্টসাধ্য কাজের ব্যতিব্যস্ততায়।

মানুষগুলো খুন হওয়ার পরে তাদের কেন, কিভাবে, কি কারণে খুন করা হলো সেসকল তদন্ত যতটা না আগায় তার চেয়ে রকেট গতিতে এগিয়ে চলে দেশে আইএস এর কোনো অস্তিত্ব নেই, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকতো বটেই অস্বাভাবিক ভালো। আমরা সবাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো নিরাপত্তায় এবং সুস্থ সুন্দর রয়েছি, প্রায় এরকম অমোঘ বাণী। ধারালো চাপাতির কোপে যখন মানুষগুলো মরছে, প্রতিদিনই যখন সংবাদের শিরোনামে খুন আর খুন, বাঙ্গালী জাতি যখন এহেন পরিস্থিতিতে সর্বদা আতঙ্কিত তখন রাষ্ট্রীয় মহামান্য কর্তারা জাহির করছেন তাদের অমৃত বাণী।

যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিরাপত্তা দেয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য সেখানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক গত কয়েকদিন আগে পরামর্শ দিয়েছেন, প্রতি বাড়িতে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানোর। তিনি বলেন, ঘরে ঘরে পাহারা দিয়ে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পারবে না। এ জন্য প্রত্যেকের নিরাপত্তাবোধের পাশাপাশি নিরাপত্তাবলয় তৈরি করতে হবে। নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশ প্রধানের এমন বক্তব্যের পর যেখানে প্রতিটি খুনের পর আইএস অথবা আনসারউল্লাহ বাংলা টিম এই সকল হত্যার দায় স্বীকার করছে সেখানে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বললেন, বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর কোন অস্তিত্ব নেই এবং আইএস’র সাথে এখানকার স্থানীয় কোন জঙ্গি সংগঠনেরও যোগাযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘এদেশে জঙ্গি সংগঠন আইএস’র কোন স্থান নেই এবং এখানে বেড়ে ওঠা জঙ্গি সংগঠনের সাথে আইএস’র কোন সম্পর্ক নেই।’

dhaka-3প্রায় প্রতিদিন যেখানে মানুষ খুন হচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে সকল স্বপ্ন তখন আমাদের পুলিশ প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের এহেন বক্তব্যের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গত কয়েকদিন আগে সংসদে সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকায় দেশে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলার রহস্য উদঘাটনে সফলতার পরিচয় দিয়েছে।

আমাদের অবস্থা এমন হয়েছে যে, পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা অথচ এইমাত্র দেশি মুরগী আর পোলাও সাথে বোরাহনীও ছিল সেটা পেট পুরে খেলাম, এরকম ভাব দেখিয়ে যেমন কোনো লাভ নেই তেমনি দেশে আইএস আছে কি নেই, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো কি মন্দ, আমরা সুখে আছে কি নেই, এসকল বাণী বিশ্ব মোড়লদের শুনিয়ে কোনো ফায়দা আছে বলে মনে হয় না। বরং আমার ক্ষুধা আমাকেই নিবারণ করতে হবে, দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলো নির্মূল করে দেশকে শান্তি সমৃদ্ধিতে পরিণত করা রাষ্ট্রের কর্তাদের দায়িত্ব। অপরদিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন সেটাও আমাদের অজানা নয়, তাদের সাফল্য-ব্যর্থতার পরিসংখ্যান দেখলেই সেটা পরিষ্কার হয়ে যায়। তাই শুধু- ভালো আছি, সুখে আছি, শান্তিতে আছি, এমন বুলি আউড়িয়ে লাভ নেই বরং প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে পথ চলা একটু সুখে শান্তিতে থাকার ব্যবস্থা করাই রাষ্ট্রের কর্তাদের শ্রেয় বলে মনে হয়।

*প্রতিবেদক আমাদের বাংলাদেশের প্রতিনিধি

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.