কলকাতা: ঐতিহাসিক পিঙ্ক বল টেস্টে অভিজাত ইডেনে প্রথমদিনের সাপার ব্রেকে দ্যুতি ছড়ালেন ভারতীয় ক্রিকেটের ফ্যাব-ফোর। প্রাথমিকভাবে ভারতীয় ক্রিকেটের ফ্যাব-ফাইভ অর্থাৎ সচিন, সৌরভ, রাহুল, কুম্বলে ও লক্ষ্মণের ক্রিকেটীয় আড্ডায় মেতে ওঠার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে ঐতিহাসিক ইডেন টেস্টে মাঠে উপস্থিতিতে বিলম্ব হওয়ার কারণে আড্ডায় ছিলেন না রাহুল দ্রাবিড়। তবে তাতে ইডেনে প্রথমদিনের সাপার ব্রেকে ক্রিকেট আড্ডার জৌলুষ ফিকে হয়নি এতটুকু।

সম্প্রচারকারী চ্যানেলের সঞ্চালক যতিন সাপরুর সঙ্গে ইডেন গার্ডেন্সে জমাটি আড্ডার আসরে বসেন ফ্যাব-ফোর সচিন তেন্ডুলকর, অনিল কুম্বলে, হরভজন সিং ও ভিভি এস লক্ষ্মণ। ঘরের মাঠে অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের পক্ষেও আড্ডায় যোগদান করা সম্ভব হয়নি। তাতে কী? বাকিরা যাঁরা ছিলেন তাদের সঙ্গেও যে ইডেনের নাড়ির টান। প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে হরভজনের টেস্ট হ্যাটট্রিক কিংবা ভিভি এস লক্ষ্মণের ঐতিহাসিক অপরাজিত ২৮১ রান, সবকিছুরই সাক্ষী ক্রিকেটের নন্দনকানন। তবে পিঙ্ক বল টেস্টের প্রথমদিন সচিনকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল ইডেনের গ্যালারিতে।

ক্রিকেটের স্বর্গোদ্যান ইডেন ফের একবার প্রমাণ করে দিল অবসরের পর ছ’বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও সচিনকে ঘিরে সিটি অফ জয়ের আবেগ ফিকে হয়নি এতটুকু। সম্প্রচারকারী চ্যানেলের সঞ্চালক লিটল মাস্টারকে স্বাগত জানাতেই শব্দব্রহ্মে ফেটে পড়ল ইডেনের গ্যালারি। সচিন…সচিন ধ্বনিতে মুখরিত হল ক্রিকেটের স্বর্গোদ্যান। এরপর একে একে আড্ডা জমালেন হরভজন সিং। প্রিয় ইডেন কখনও তাঁকে খালি হাতে ফেরায়নি, জানান ভাজ্জি।

টার্বুনেটরের কথায়, ‘এই স্টেডিয়াম আমাকে যা আনন্দ দিয়েছে সেটা ভাষায় প্রকাশ করার নয়। হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি যতবারই ইডেনে টেস্ট খেলেছি প্রত্যেকবারই ৫ উইকেট নিয়েছি। পাশাপাশি এখানে দু’টো আইপিএলের ফাইনালেও জয়লাভ করেছি। ইডেন আমার সকল মনস্কামনা পূর্ণ করেছে।’ আর কলকাতাকে নিয়ে বলতে গিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম হ্যাটট্রিকধারী বোলার বলেন, ‘কলকাতার মানুষের ভালোবাসা সবচেয়ে স্পেশ্যাল।’

প্রিয় দাদি’র শহরে এসে কলকাতার দর্শকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সচিন তেন্ডুলকরও। লিটল মাস্টার জানান, ‘যতবারই কলকাতায় খেলতে নেমেছি ইডেনের গ্যালারি আমাদের বাড়তি এনার্জি জোগান দিয়েছে সেরাটা দেওয়ার জন্য।’ সংক্ষিপ্ত সেই ক্রিকেট আড্ডায় স্বাভাবিকভাবেই মহাকাব্যিক ২৮১ রানের ইনিংসের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে নস্ট্যালজিক হয়ে পড়েন ভেরি ভেরি স্পেশাল লক্ষ্মণ। পাশাপাশি ক্রিকেট নিয়ে মজার মজার কিছু টুকরো স্মৃতি তুলে ধরেন প্রত্যেকেই। ঐতিহাসিক পিঙ্ক বল টেস্টের জৌলুষ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয় ফ্যাব-ফোরের এই আলোচনাচক্র।

কুম্বলের স্মৃতিতে উঠে ১৯৯৩ হিরো কাপ ফাইনালের অন্তিম ওভারে সচিনের অনবদ্য বোলিং পারফরম্যান্সের ঘটনা। ইডেনে সেবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শেষ ওভারে ৬ রান ডিফেন্ড করে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন বান্দ্রার বাদশা। সবমিলিয়ে ইডেন নিয়ে ফ্যাব-ফোরের টুকরো-টুকরো এমনই নানা স্মৃতি রোমন্থন ঐতিহাসিক পিঙ্ক বল টেস্টের অনুরাগীদের জন্য ছিল এক্সট্রা বোনাঞ্জার মত।