মুম্বই: দ্বিতীয় দফায় ইডি অফিসে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে জেরা করা হলো রিয়া চক্রবর্তী ও তার ভাই সৌভিক চক্রবর্তীকে। সুশান্ত সিং রাজপুতের ঘটনায় অভিযুক্ত রিয়ার মানি-লন্ডারিংয়ের কোন যোগ আছে কিনা সে বিষয়ে খতিয়ে দেখছে ইডি। আর তাই রিয়া ও তার ভাইয়ের বেশ কিছু জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হলো।

টাইমস নাও এর প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ইডি রিয়া ও তার ভাইয়ের থেকে চারটে মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। এরমধ্যে রয়েছে রিয়ার দুটি মোবাইল ফোন। এছাড়া সৌভিক ও তাদের বাবা ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তীর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মোবাইল ফোন ছাড়া ইডি-র কাছে এই মুহূর্তে রয়েছে দুটি আইপ্যাড এবং ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী একটি ল্যাপটপ। এই সমস্ত গ্যাজেট ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

এই ডিভাইসগুলিতে ডেটা অ্যানালিসিস করতে চায় ইডি। অর্থাৎ গত এক বছর ধরে ঠিক কী ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখার জন্য ফোন এবং ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক ট্রানজাকশন ডিটেইল থেকে বের করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। রিয়ার একটি ফোনের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা গিয়েছে যে ৮ জুনের পর থেকে বেশ কয়েকবার তিনি প্রযোজক পরিচালক মহেশ ভাটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

এই দিনই তিনি সুশান্তের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন এবং এই দিনে মৃত্যু হয় সুশান্তের প্রাক্তন ম্যানেজার সালিয়ানের। দেখা যাচ্ছে ৮ থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত রিয়ার ফোন থেকে মহেশ ভাটের কাছে ১৬ বার ফোন করা হয়েছে। ১৪ জুন পনরা ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় সুশান্তের দেহ।

এখানেই শেষ নয়। রিপোর্ট বলছে যে একজন জনপ্রিয় বলিউড পরিচালকের থেকে সাহায্য চাইছিলেন রিয়া চক্রবর্তী। সংবাদ মাধ্যমে নিজের ব্যাপারে ইতিবাচক লেখা প্রকাশ করানোর জন্য সেই পরিচালকের থেকে একজন সাংবাদিকের ফোন নম্বর চান রিয়া। প্রতিবেদন থেকে এমনই জানা যাচ্ছে।

সুশান্ত-এর এই ঘটনায় রিয়া চক্রবর্তী ও তার ভাই সৌভিক ছাড়াও ইডি সুশান্তের বিজনেস ম্যানেজার শ্রুতি মোদিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। শ্রুতি মোদি রিয়া ও সুশান্ত ব্যবসা সম্পর্কিত সমস্ত কিছু সামলাতেন। শ্রুতি কে নিয়োগ করেছিলেন খোদ রিয়াই। এছাড়া সুশান্তের রুমমেট সিদ্ধার্থ পিঠানিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সোমবার ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন রিয়া চক্রবর্তী। তিনি দাবি করেন সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে দোষী সাব্যস্ত করছে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই। আর সেই মর্মে তিনি পিটিশন করেন সুপ্রিমকোর্টের কাছে। তার সঙ্গে তিনি সিবিআই তদন্তের বিরোধিতাও করেছেন। তার দাবি কিভাবে বিহার সরকারের আবেদনের পর এই সিবিআই তদন্ত শুরু হল। অথচ রিয়া চক্রবর্তী নিজেই অভিযুক্ত হওয়ার আগে অমিত শাহর কাছে সিবিআই তদন্ত চেয়ে ছিলেন। এখান থেকেই নতুন করে নানা রকমের প্রশ্ন উঠছে। আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কী শুনানি দেয় তার অপেক্ষায় রয়েছে সুশান্তের অনুগামীরা।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও