নয়াদিল্লি: কংগ্রেসের সময়টা বিশেষ ভাল যাচ্ছে না৷ একদিকে লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবি, অন্যদিকে রেজাল্ট আউটের পরেরদিনেই প্রিয়াঙ্কার গান্ধীর স্বামী রবার্ট ভডরার জামিনের আবেদন খারিজের আরজি ইডির৷ এই আবেদন নিয়েই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট৷

নিম্ন আদালতে মঞ্জুর হয়েছিল রবার্টের জামিন৷ সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল ইডি৷ আর্থিক তছরুপের দায়ে অভিযুক্ত ভডরাকে এর আগে একাধিকবার জেরা করেছে ইডি৷ ফের ভডরার মামলা নতুন করে শুরু করতে চাইছে ইডির আধিকারিকরা৷ একাধিক তথ্য প্রমাণ যোগাড় করে এগোতে চাইছে ইডি৷

আরও পড়ুন : এই পাঁচ তাসেই বাংলায় বিজেপি রাজ

রবার্টের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা যেমন, লণ্ডনের সম্পত্তি, হরিয়ানার গুরুগ্রামের জমি কেলেঙ্কারি, বিকানিরের জমি মামলার রয়েছে৷ ফেব্রুয়ারি মাসের ৬তারিখ ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জেরা করা হয় রবার্ট বডরাকে৷ লণ্ডনে বেনামি সম্পত্তি কেনাবেচার অভিযোগ ছিল রবার্টের বিরুদ্ধে৷ দুদিন ধরে ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জেরা করা হয় তাঁকে৷

ইডির প্রশ্ন ছিল, লণ্ডনের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির মালিক তিনি যদি না হন, তাহলে রক্ষণাবেক্ষণের ভার তাঁর ওপর কেন? এর আগে, জমি কেনা বেচা সংক্রান্ত ব্যাপারে তদন্তের মুখে পড়েন গান্ধী পরিবারের জামাই রবার্ট ভডরা৷ তিনি জানান তদন্তে সাহায্য করতে চাই। অন্য দেশে পালিয়ে কোনও যাওয়ারও পরিকল্পনা নেই।

তবে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, ”আমি পালিয়ে যাচ্ছি না। আমি এখানেই আছি। আমি আইনের উপরে নই তাই সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলব। কিন্তু তার মানে এই নয় যে কেউ আমার বাড়িতে এসে তল্লাশির নামে তান্ডব চালাতে পারে।”

আরও পড়ুন : সাফল্যে বিতর্ক অতীত, আডবানী-জোশীর বাড়িতে মোদী-শাহ

উল্লেখ্য, গত বছরই রবার্টের দিল্লির অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। একই সঙ্গে রাজস্থানে তাঁর দুই সঙ্গীর বাড়িতেও তল্লাশি চালায় এই কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা। রবার্টের আইনজীবী দাবি করেন ইচ্ছাকৃত প্রমাণ রেখে আসার জন্যই চলেছে তল্লাশি।

রবার্ট বলেন তল্লাশির নেপথ্যে আছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। তাঁর মা হাসপাতালে ভর্তি। তারপরও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। রবার্টের দাবি, তাঁরা কোনও অপরাধ করেননি। আর তাই ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁর অভিযোগ তদন্ত সংস্থা অনুমতি ছাড়াই তল্লাশি চালিয়েছে। আর তালা ভেঙে ঢুকে তল্লাশির নামে তাণ্ডব চালিয়েছে।