নয়াদিল্লি: নতুন করে নোটিশ পাঠাল নির্বাচন কমিশন৷ মধ্যপ্রদেশের ভোপালের দুই প্রার্থী বিজেপির সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুর ও কংগ্রেসের দিগ্বিজয় সিংকে নোটিশ ধরাল কমিশন৷ নির্বাচনী খরচে অসঙ্গতি থাকায় এই নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

যে খরচের তালিকা এই দুই প্রার্থী জমা দিয়েছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে বলে অভিযোগ কমিশনের৷ কমিশনের নিজস্ব তদন্তকারী টিম খোঁজ নিয়ে দেখেছে, দিগ্বিজয় সিং ২৮লক্ষ ৩৬ হাজার ৩৯৭ টাকা খরচের হিসেব দেখিয়েছেন৷ যেখানে সাধ্বী প্রজ্ঞার নির্বাচনী খরচ হয়েছে ১৩ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩০৭ টাকা৷ সাধ্বী জানিয়েছেন তিনি সমর্থকদের নিয়ে ছোট ছোট জনসভা করার উদ্দ্যেশ্যে ১০০ টাকা প্রতিদিনের হিসেবে কুলার ভাড়া করেছেন৷ ড্রামের ভাড়ায় খরচ হয়েছে ১২০০ টাকা৷

আরও পড়ুন : সিকিম সীমান্তের কাছে বায়ুসেনার শক্তি বাড়াচ্ছে চিন

তবে এই হিসেবকে ভুয়ো বলে দাবি করেছে কমিশন৷ কমিশন জানাচ্ছে, নির্বাচনী হিসেবে বেশ অসঙ্গতি রয়েছে এই দুই প্রার্থীর৷ বেশ কিছু খাতে মোটা টাকা খরচ করা হয়েছে, যা তুলে ধরা হয়নি৷

এর আগেও নির্বাচন কমিশনের নোটিশ পান সাধ্বী প্রজ্ঞা৷ নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ করার জন্য এই নোটিশ পাঠানো হয় তাঁকে৷ ভোপালের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুরকে জানিয়েছিলেন, দোসরা মে থেকে চৌঠা মে পর্যন্ত কোনও নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না সাধ্বী৷ বৃহস্পতিবার সকাল ছ’টা থেকে কার্যকর হয় এই নিয়ম৷ শাস্তির মেয়াদ ছিল তিনদিন৷ রবিবার সকাল ছ’টার পর ফের তিনি প্রচারে বেরতে পারবেন বলে জানানো হয়েছিল৷

তবে সেই নির্দেশিকার কিছুই মানেননি সাধ্বী বলে অভিযোগ কমিশনের৷ তাঁকে ওই নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া নিয়েই প্রচার করতে দেখা গিয়েছে৷ প্রচারে বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরেছেন তিনি৷ গিয়েছেন গোশালায়৷ ফলে এই বিজেপি প্রার্থীর আচরণে বেশ ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন৷ দ্রুত তাঁর কাছে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে৷ এই নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে সাধ্বীকে৷

আরও পড়ুন : দল ত্যাগ করেছে, সদ্যোজাত সন্তান নিয়ে আত্মসমর্পণ মাওবাদীর

২০০৮ সালে মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওয়ে বিস্ফোরণে ৭জন প্রাণ হারায়, আহত হয় ১০০-এরও বেশি৷ আর এই ঘটনার ষড়যন্ত্রেই অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসে সাধ্বী প্রজ্ঞার৷ আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করলেও, তাঁর বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ থেকে এখনও অব্যাহতি মেলেনি৷

২০১৭-র ডিসেম্বরে তাঁকে মহারাষ্ট্র সংগঠিত অপরাধ আইন (মকোকা) থেকে রেহাই দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র বিশেষ আদালত। তবে সন্ত্রাস দমন এবং ইউএপিএ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে।