স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : এক জায়গার কাম খতম করে অপর জায়গায় হানা দিচ্ছে করোনা। আরও বলা ভালো যে অঞ্চল বেশি বেয়াদপি করছে সেখানেই ভাইরাস গিয়ে জাঁকিয়ে বসছে। বড় প্রমাণ দিচ্ছে কলকাতার নয়া করোনা চিত্র। আগে বেলগাছিয়া, নারকেলডাঙা, রাজাবাজার, তোপসিয়া এলাকাগুলি চিন্তা বাড়াচ্ছিল শহরের। এবার দেখা যাচ্ছে মাথাব্যাথার কারণ বড়বাজার চত্বর , পোস্তা, জোড়াবাগান ও জোড়াসাঁকো এলাকা।

 

কলকাতা পুরসভা ও প্রশাসকের কো-অর্ডিনেটররা স্পষ্ট জানাচ্ছে এইসব এলাকায় লকডাউন মানছে না বেশির ভাগ মানুষ। পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ জন। এর মধ্যে অধিকাংশই এই সব এলাকার বাসিন্দা। শহরের ১৬টি বরোর মধ্যে এই চার নম্বর বরো এলাকাটিই এখন সব চেয়ে বড়ো চিন্তার কারণ। ঘটনা হল, ওই এলাকাগুলি শুধু ঘন বসতিপূর্ণই নয়, ব্যবসায়িক কাজে লকডাউনের মধ্যেও এই সব এলাকায় প্রতি দিন ভিন রাজ্য থেকে প্রচুর পণ্যবাহী গাড়িও ঢুকছেও। যেহেতু অর্থনৈতিক অঞ্চল শহরের বড় বাজার, তাই সেটা হচ্ছেও। সমস্যার হাল করার চেষ্টা করছে পুরসভা।

এই সব জায়গায় করোনা সংক্রমণ ঠেকানো যাবে, সেই নিয়ে সোমবার কলকাতা পুরসভার মুখ্যপ্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে বৈঠক করেন চার নম্বর বরোর তৃণমূল, বিজেপি আর সিপিএমের সদ্যপ্রাক্তন কাউন্সিলর তথা বর্তমানের কো-অর্ডিনেটররা। এদিকে কলকাতায় কন্টেনমেন্ট জোন ৩২৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৩৮৷ কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর,নতুন করে ‌১২টি সংক্রমিত এলাকা যুক্ত হয়েছে কলকাতা পুরসভা এলাকার তালিকায়৷ এর মধ্যে সবথেকে বেশি জোন বেড়েছে ৭ নম্বর বরোতে৷ এখানে একলাফে ৪টি সংক্রমিত এলাকা বেড়েছে৷

দুটি করে সংক্রমিত এলাকা বেড়েছে ৯ ও ১০ নম্বর বরোতে৷ একটি করে সংক্রমিত এলাকা বেড়েছে ২, ৩, ১২ ও ১৫ নম্বর বরোতে৷ নতুন করে সংক্রমিত এলাকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য উত্তর কলকাতার দু’নম্বর বরোর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩৬/১০ বিধান সরণি, হেমন্ত কুমারী স্ট্রিট, মন্মথ ভট্টাচার্য্য লেন। বলা যায় উত্তর কলকাতার প্রায় সব অঞ্চল জুড়ে রয়েছে কনটেনমেন্ট জোন৷ জানা গিয়েছে, উত্তর কলকাতার ১৪৪ টি ওয়ার্ডের মধ্যেই ১১৩টিই কনটেনমেন্ট জোন। অর্থাৎ অনেকটা জায়গা জুড়ে ছড়িয়েছে সংক্রমণ। ১-৬৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে একটি কনটেনমেন্ট-মুক্ত এলাকা। প্রথম ৬৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে কনটেনমেন্ট-মুক্ত ৪১ নম্বর ওয়ার্ড। কলকাতায় কনটেনমেন্ট জোনের সংখ্যা ছিল৩২৬। এখন তা বেড়ে হল ৩৩৮৷

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প