নয়াদিল্লি:  ধুকছে দেশের আর্থিক অবস্থা। যতদিন এগচ্ছে তত অবস্থা খারাপ হচ্ছে দেশের আর্থিক অবস্থার। এরই মধ্যে সামনে এল একেবারে খারাপ খবর। সমীক্ষা বলছে চলতি ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে দেশে তৈরি হওয়া মোট চাকরির সংখ্যা গত অর্থবর্ষের তুলনায় ১৬ লক্ষ কম হতে পারে। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া। আর তাদের রিসার্চ রিপোর্টেই উঠে এসেছে এমনই আশঙ্কার কথা।

বাংলা এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সৌম্যকান্তি ঘোষের নেতৃত্বে তৈরি হয় এই রিপোর্ট। আর সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রভিডেন্ট ফান্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে পে-রোলে মোট ৮৯. ৭ লক্ষ চাকরি হয়েছিল। চলতি ১৯-২০ অর্থবর্ষ (অর্থাৎ, আগামী মার্চ মাসে শেষ হতে চলা) সেই সংখ্যাটি অন্তত ১৬ লক্ষ কমবে। যা কিনা যথেষ্ট আশঙ্কার খবর বলেই জানাচ্ছেন অর্থনীতির কারবারিরা।

রিপোর্ট আরও জানাচ্ছে, এপ্রিল-অক্টোবর অনুযায়ী প্রকৃত নতুন পে-রোল হল ৪৩.১ লক্ষ। প্রবণতা বলছে, অর্থবর্ষের শেষে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ৭৩.৯ লক্ষে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী এসবিআই রিপোর্ট বলছে, চলতি অর্থবর্ষে অর্থনীতির বৃদ্ধির হারের পূর্বাভাস কমে ৫ শতাংশ হয়েছে। আর যার ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়েছে চাকরির বাজারেও। দেশের অর্থনীতি যতদিন এগোচ্ছে তত তলানিতে এসে ঠেকছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশের চাকরির বাজারেও। দেশে ক্রমশ বেকার যুবক-যুবতীদের সংখ্যা বাড়ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী এই প্রবনতা যদি চলতে থাকে তাহলে চলতি অর্থবর্ষের শেষে অন্তত ১৫.৮ লক্ষ চাকরি কম তৈরি হবে।

প্রকাশিত ওই সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, প্রভিডেন্ট ফান্ডের এই তথ্য মূলত কম-বেতনভুক্ত চাকরি সংক্রান্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি। এসব চাকরির ক্ষেত্রে বেতনের ঊর্ধ্বসীমা মাসে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি এবং বেসরকারি চাকরি সংক্রান্ত তথ্য এই এই পরিসংখ্যানের আওতায় নেই। কারণ, তা ২০০৪ সাল থেকে এই পরিসংখ্যান প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে জাতীয় পেনসন যোজনার (এনপিএস) অন্তর্গত। তবে, সেখানেও স্বস্তির খবর নেই। কারণ, এনপিএস তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে ৩৯ হাজার চাকরি কম তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।