সাও-পাওলো/ব্রাসিলিয়া: জ্বলছে আমাজন। রেন ফরেস্টে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় দিন একধাক্কায় রাত হয়ে যাচ্ছে। চিন্তায় মাথায় হাত। এই ধরনের ঘটনায় ব্রাজিলের প্রেসিডেণ্ট জৈর বলসোনারো স্বেচ্ছাসেবি সংস্থাগুলিকে দোষারোপ করেছেন।

দেশের প্রেসিডেণ্ট এই ঘটনায় বলেছেন, আমাজন রেন ফরেস্টে দাবানলের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবি সংস্থাগুলি দায়ি কারণ দেশের সরকার তাঁদের অনুদান কমিয়ে দিয়েছে। তৈ তারা সরকারের না খারাপ করতে চাইছে। প্রেসিডেণ্ট বলসোনারো আমাজনকে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে ব্যবহারের পরিকল্পনা দিয়েছেন তা নিয়ে পরিবেশবিদরা বেশ অবাক। তিনি স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা গুলিকে দোষারোপ করেছেন যদিও তিনি এবিষয়ে কোন প্রমাণ দিতে পারেননি।

সোমবার ব্রাজিলের সাও-পাওলোতে বনের আগুনের ধোঁয়াতে দিনের বেলাতেই গোটা শহর ধোঁয়াতে অন্ধকার হয়ে যায়। আগুনটি লাগে আমাজোনাস ও রোনডোনিয়া বনাঞ্চলে। সেখান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাও-পাওলোতে বিকাল তিনটের পর থেকে প্রায় এক ঘন্টা গোটা শহরকে অন্ধকার করে দেয় ধোঁয়া।

তবে অনেকের মতে কৃষকরা জমি সাফ করতে ইচ্ছে করেই অরণ্যে আগুন লাগিয়ে দেয়। বন পরিষ্কার করে এখানে তারা গবাদি পশু প্রতিপালনের জন্য চারণভূমি তৈরি করার জন্য এমনটা করে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিরহরিৎ বনাঞ্চল আমাজন বিপুল পরিমাণ কার্বন জমা রেখে বৈশ্বিক উষ্ণতার গতিকে খানিকটা শ্লথ রেখেছে।

ব্রাজিলের কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট বলসোনারো কাঠুরে ও কৃষকদের বনটি উজাড়ে উৎসাহ দিচ্ছেন বলে পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা অভিযোগ করেছেন। এদিকে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বলেছে, আমাজন অবববাহিকায় এ বছর অগ্নিকাণ্ডের পরিমাণ অন্যান্য সময়ের গড় অগ্নিকাণ্ডের তুলনায় কম। আমাজোনাস ও রোনডোনিয়াতে বাড়লেও মাতো গ্রোসো ও পারা রাজ্যে আগুন লাগার পরিমাণ কমেছে বলে জানিয়েছে তারা।

বিশ্ব উষ্ণায়নের সাথে লড়াই করার অন্যতম ভরসা আমাজন অরণ্য। গোটা বিশ্বের ফুসফুস বলে পরিচিত এই অরণ্য পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ২০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করে। সেখানে এ রকম লাগাতার দাবানলের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে পরিবেশবিদদের। শুকনো বাতাসে দাবানল জ্বলে ওঠা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু সব দাবানল প্রাকৃতিক নয় সেরকমও ব্লছেন পরিবেশবিদরা।