তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: মরশুমের শুরুতেই পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে বাঁকুড়ার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র ছাতনার শুশুনিয়া পাহাড়ে। কিন্তু এই মুহূর্তে অধিকাংশ পর্যটকের মন ভরাতে ব্যর্থ শুশুনিয়া৷ কারণ গত কয়েক বছর আগে এখানে সরকারি উদ্যোগে ‘মরুৎবাহা ইকোপার্ক’ চালু হয়। বাঁকুড়া শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার ও ছাতনা থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে এই পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ফি বছর অসংখ্য পর্যটক আসেন।

একই সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশে ইকোপার্কেও বেশ কিছুটা সময় নিজেদের মতো কাটানোর সুযোগ পাচ্ছিলেন পর্যটকরা৷ কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে সমস্ত ধরনের পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও তালা বন্ধ মরুৎবাহা ইকোপার্কের দরজা। ফলে এক প্রকার নিরাশ হয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে পর্যটকদের৷ এভাবে চলতে থাকলে পর্যটকদের উপস্থিতির সংখ্যা অনেকটাই কমবে বলে আশঙ্কা করছেন একাংশ৷

এই পরিস্থিতিতে চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় পাথর শিল্পী থেকে ব্যবসায়ীরাও। তাঁরা মনে করছেন, এইভাবে দিনের পর দিন ইকোপার্ক বন্ধ থাকলে স্বাভাবিক ভাবেই এখানে পর্যটকের সংখ্যা কমবে৷ ফলে রুটিরুজিতে টান পড়বে তাঁদের। আঞ্চলিক অর্থনীতিও ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তাঁরা মনে করছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পাহাড়, পাহাড়ি ঝর্ণা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে এখানে অসংখ্য পর্যটক ছুটে আসেন। আরও বেশী পর্যটক টানতে সরকারি উদ্যোগে এখানে একটি ইকোপার্ক তৈরি করা হয়েছিল। গত ছ’মাস ধরে সেটাও বন্ধ। ফলে পাহাড় আর ঝর্ণা ছাড়া এই মুহূর্তে এখানে দেখার মতো কিছুই নেই।’’ সামনেই পর্যটন মরশুম শুরু হচ্ছে। তার আগে ওই পার্ক খোলা না হলে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তাঁর মতো অসংখ্য ব্যবসায়ীর রুটিরুজিতে টান পড়বে। সেই কারণেই পর্যটকদের মনোরঞ্জনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের কথা ভেবে দ্রুত মরুৎবাহা ইকোপার্কের দরজা সর্বসাধারণের জন্য খোলার দাবি জানান তিনি।

সপরিবারে কলকাতার বেলঘরিয়া থেকে শুশুনিয়ায় বেড়াতে এসেছিলেন মনতোষ চট্টোপাধ্যায়, সোমা চট্টোপাধ্যায়ের পরিবার। তাঁরা বলেন, ‘‘এক দিকে পুজোর ছুটি, অন্যদিকে ভিড় এড়াতে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহটাকে আমরা বাঁকুড়া ভ্রমণের জন্য বেঁছে নিয়েছিলাম। বিষ্ণুপুর, মুকুটমনিপুর ঘুরে শুশুনিয়ায় এসেছি। বিষ্ণুপুর আর মুকুটমনিপুর আমাদের মন জয় করতে পারলেও শুশুনিয়ায় এসে খানিকটা নিরাশই হলাম। পাহাড় আর পাহাড়ি ঝর্ণা, চন্দ্রবর্মার শিলালিপি ছাড়া দেখার জিনিস তেমন কই! পার্কটাও শুনছি ছ’মাস ধরে বন্ধ। পার্ক খোলা থাকলে ছোটোদের নিয়ে কিছুটা সময় কাটানো যেত এখানে।’’

যদিও জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সদর্থক চিন্তাভাবনা নিয়েছে। জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস বলেছেন, ‘‘আগের এজেন্সির চুক্তির সময়সীমা শেষ হয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে আগের মতো কোনও এজেন্সিকে দিয়ে পার্কটি চালানো। জেলা পরিষদ ও স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতি বেশ কয়েকবার টেণ্ডার আহ্বান করলেও কোনও এজেন্সিই প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ করতে পারেনি। উপযুক্ত এজেন্সি না পাওয়ার কারণে পার্ক খোলা যায়নি।’’ প্রয়োজনে প্রশাসন নিজেরাই স্থানীয়দের দিয়ে এই পার্ক চালু রাখবে বলেও তিনি জানিয়েছেন৷