চট্টগ্রাম: সরকারী কর্মীদের একাংশ জড়িয়ে অবৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কাজে। বাংলাদেশে আশ্রিত ১০ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গাদের মধ্যে ছড়িয়ে এই চক্র। এর ফলে বিরাট ঝুঁকির মুখে পড়েছে সরকার।

বাংলাদেশ সরকারের চট্টগ্রাম নির্বাচন বিভাগের বেশকিছু কর্মকর্তা জড়িত জাতীয় পরিচয় পত্রে অবৈধভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নাম নথিভুক্ত করার কাজে। প্রচুর অর্থের বিনিময়ে করা হয়েছে এই কাজ।তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। ধৃত ১০ জন। এদের মধ্যে ৮ জনই নির্বাচন কমিশনের কর্মী।

পাশাপাশি অভিযান চালাচ্ছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট-সিটিইউ। কারন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে একাংশের জঙ্গি ঝোঁক প্রবল। মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ বা পূর্বতন আরাকান থেকে ১০ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের শিবিরে আছে। মায়ানমার সরকারের সামরিক অভিযানের মুখে তারা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। রাখাইনে জাতিগত গোষ্ঠী সংঘর্ষের পর সেখানে গণহত্যা ও গণধর্ষণে অভিযুক্ত বর্মী সেনা। এই নিয়ে বিশ্ব জোড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে মায়ানমার সরকার।

এদিকে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য অবৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট করানোর চক্র চলছে রমরমিয়ে। এভাবেই নিজেদের বাংলাদেশি-তে পরিণত রুপান্তরিত করছে মায়ানমরের রোহিঙ্গারা।

ঘটনার তদন্তে নেমে দুদক জানতে পারে চট্টগ্রাম নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের একাংশ এই অবৈধ পরিচয়পত্র তৈরিতে জড়িত। ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেয়ার ঘটনায় গ্রেফতার করা রয়েছে ১০ জনকে। সূত্রের খবর, দুদক ও কাউন্টার টেরোরিজমের যৌথ তদন্তের জেরে নির্বাচন কমিশনের একাংশ কর্মী প্রবল আতঙ্কিত।

গোয়েন্দা বিভাগ আগেই জানায়, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা ক্ষোভকে উসকে দিয়ে বিভিন্ন উগ্র ইসলামিক গোষ্ঠী জঙ্গি তৎপরতা ছড়াতে মরিয়া। পাকিস্তানের সামরিক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই সৌদি আরব থেকে টাকা ছড়িয়ে এই কাজ করাচ্ছে়। তদন্তে উঠে এসেছ, ঝুঁকিবহুল রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশের নাগরিককে পরিণত করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের ভিতর থেকেই।

তদন্তে নেমে দুদক গ্রেফতার করে নির্বাচন কমিশন কর্মী জয়নাল আবেদিন সহ ৩ কর্মচারীকে়।তাদের জেরা করে উঠে এসেছে এই চক্রের আরও ২৭ জনের নাম। তাদের গ্রেফতার করার অনুমতি চেয়ে কমিশনে চিঠি পাঠায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ।

সন্দেহজনক কর্মীদের নাম-

১. চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুনীর হোসাইন খান, ২. চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার প্রাক্তন নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল লতিফ শেখ ৩.ঢাকা এনআইডি প্রজেক্টের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট সাগর ও সত্য সুন্দর দে ৪. ঢাকা আইডিইএ প্রকল্পে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট শাহানুর মিয়া ৫. সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের অস্থায়ী অপারেটর জনপ্রিয় বড়ুয়া ৬. চট্টগ্রাম ডবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীন। বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন জানাচ্ছে, এদের জেরা করলেইমিলবে বিরাট জালিয়াতি চক্রের হদিস।