নয়াদিল্লি : চলতি মাসেই সুলতানপুরে ‘ABCD’ ফর্মুলার মতো বিতর্কিত মন্তব্য করায় নির্বাচন কমিশনের শাস্তির খাঁড়া নেমে এসেছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গান্ধীর ঘাড়ে। ভোটের মরশুমে বেশ কয়েকদিন বন্ধ ছিল প্রচার। সোমবার ফের তাঁকে ধমক দিয়ে সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন।

মানেকার বিরুদ্ধে অভিযোগ, রবিবার সুলতানপুরে প্রচারে যান কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী মানেকা গান্ধী। সেখানে মহিলা মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারা যদি তাঁকে ভোট না দেন তাহলে তিনিও তাদের অনুরোধ রাখতে পারবেন না। পাশাপাশি তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্বাচন কমিশন তার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে।

১৪ এপ্রিল সুলতানপুরের সরকভিন্দা গ্রামে প্রচারে যান মানেকা। প্রচারের সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, গ্রামগুলি থেকে বিজেপি যত সংখ্যক ভোট পাবেন সেই ভোটারদের A, B, C এবং D হিসেবে ক্রমিক সংখ্যায় ফেলা হবে। সেই অনুপাতেই গ্রামের মানুষের উন্নতি সাধন করবে বিজেপি সরকার। এই বিষয়ে সম্ভাব্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তার বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তাঁকে তীব্র নিন্দা করেছিল নির্বাচন কমিশন। তাছাড়া ভবিষ্যতে যেন তিনি এই ধরণের কাজ না করেন সে বিষয়ে তাঁকে সতর্কও করা হয়েছিল।

“আমরা পিলিভিট থেকে প্রত্যেকবার জিতে এসেছি। তাহলে একটি গ্রামের থেকে অন্য গ্রামের উন্নতি সাধনে আমাদের প্যারামিটার কি হওয়া উচিৎ! সেই কারনেই আমরা ভোটারদের ৪ টি তালিকায় ভাগ করেছি – A, B, C এবং D। যে গ্রামগুলি থেকে আমরা ৮০% ভোট পাব, সেই গ্রামের ভোটাররা থাকবেন ‘A’ শ্রেনীতে। ৬০% পেলে তারা থাকবেন ‘B’ তে। ৫০% পেলে তারা থাকবেন ‘C’ তে এবং ৫০% এরও কম ভোট পেলে তারা থাকবেন ‘D’ শ্রেনীতে।”

সেদিন সরকভিন্দায় প্রচারে এমন কথাই বলেছিলেন মানেকা। “উন্নয়ের কাজ প্রথম শুরু করা হবে ‘A’ শ্রেনীর ভোটারদের দিয়ে। ‘A’ শ্রেনীর কাজ সম্পূর্ণ হলে আমরা ‘B’ শ্রেনীর উন্নয়নের জন্য কাজ করব এবং ‘B’ সম্পূর্ণ হলে তারপর ‘C’। সতরাং এটা আপনারাই ঠিক করবেন যে আপনারা কোন শ্রেনীতে থাকতে চান! A, B, C, নাকি D! তবে ‘D’ শ্রেনীতে কেউ আসবেন না, কারণ আমরা সকলেই এখানে সবার ভালো করতে এসেছি। ” বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, এবছর নিজের ছেলের লোকসভা আসন সুলতানপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মানেকা গান্ধী এবং তাৎপর্যপূর্ণভাবে তার ছেলে বরুন গান্ধী লড়ছেন তার লোকসভা আসন পিলিভিট থেকে।