ঢাকা: নির্বাচন ঘিরে সরকার পক্ষ অর্থাৎ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এবার প্রশাসনকে হাত করে ভোট করিয়ে নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ তুলে দিল বিএনপি৷ দলের তরফে অভিযোগ, ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের কনফারেন্স রুমের গোপন বৈঠক হয়েছে৷ এর পরেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়ল চাঞ্চল্য৷

ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেছেন, নৌকার প্রার্থীদের (পড়ুন আওয়ামী লীগ) বিজয়ী করতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত গোপন বৈঠক করছে৷ প্রশাসন এবং পুলিশের বিতর্কিত ও দলবাজ কর্মকর্তারা জনসমর্থনহীন আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় বসানোর জন্য নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

এরপরেই তিনি বলেন, গত ২০ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চার তলার পিছনের কনফারেন্স রুমে এক গোপন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালউদ্দীন আহমদ সহ প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা৷

খোদ নির্বাচন কমিশন সচিবের নাম নিয়ে বিএনপি যে অভিযোগ তুলেছে তাতেই বিতর্ক প্রবল হতে শুরু করল৷

বিএনপির অভিযোগ, গত ২০ অক্টোবরের বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব, ডিএমপি (ঢাকা মহানগর পুলিশ) ও কাউন্টার টেররিজম (জঙ্গি দমন শাখা) কর্মকর্তারা। ওইদিন আড়াই ঘণ্টা ধরে চলেছিল৷ সেই মিটিংয়ে সারা দেশের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেট-আপ ও প্ল্যান রিভিউ করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, ৩৩টি সিট নৌকার কনফার্ম আছে এবং ৬০-৬৫টিতে কনটেস্ট হবে, বাকি আর কোনও সম্ভাবনা নেই। কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এটি উৎরানো যাবে না।

বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা রিজভী জানিয়েছেন, সেই বৈঠকে মূল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপি ও সহযোগীদের চরম অসহযোগিতা করা হবে, যতই চাপ দেওয়া হোক প্রশাসনে হাত দেওয়া যাবে না, ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থী গুম খুন করে এমন অবস্থা তৈরি করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার, বিএনপি প্রার্থী পদের দাবিদারের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন রিজভী৷ তিনি লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন, ‘সারা দেশের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা প্রথম তালিকার ছয় জন সচিবকে নিয়ে একটি গুপ্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে। মূলত এখানে সব ধরনের অফিসারদের গমনাগমন ঘটে থাকে, তাই বিরোধী পক্ষের চোখ এড়ানো সহজ হবে মনে করে অফিসার্স ক্লাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সভাটি বসে।’

রিজভীর অভিযোগ, ক্ষমতাসীনেরা আসন্ন ভোট নিয়ে কী ভয়ংকর পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে! উপরিউক্ত দলবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও কর্মকাণ্ড সুনির্দিষ্টভাবে নির্বাচন কমিশনকে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে।