সুশান্ত মণ্ডল: এবারেও নক-আউটের আগে বাংলার বিদায়৷ বৃহস্পতিবারই থেমে গেল মনোজ-ঈশ্বরনদের রঞ্জি যাত্রা৷ পঞ্জাবের বিরুদ্ধে এক পয়েন্ট পাওয়ায় বাংলার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে যায়৷ তিন পয়েন্ট নিয়েও শেষ আটে ওঠা হয়নি যুবরাজ-মনদীপদের৷

বাংলা-পঞ্জাব ম্যাচ শেষ পর্যন্ত ড্র হলেও রোমাঞ্চে ভরা ছিল শেষ এক ঘণ্টা৷ কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে বাংলার দরকার ছিল ছ’ পয়েন্ট আর পঞ্জাবের সাত পয়েন্ট৷ অর্থাৎ দু’দলের ক্ষেত্রেই ম্যাচ জয় ছাড়া উপায় ছিল না৷ ম্যাচের তৃতীয় দিনেই বাংলার রঞ্জি অভিযানের অন্তর্জলিল যাত্রা শুরু হয়ে গেলেও এদিন ম্যাচের অন্তিমলগ্নে দুঃসাহস দেখান বাংলা অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি৷ শেষ এক ঘণ্টার রোমাঞ্চভরা ক্রিকেটেও শেষরক্ষা হয়নি৷

শেষ ১৫ ওভারে ম্যাচ জয়ের জন্য পঞ্জাবের দরকার ছিল ১৭৩ রান৷ ১০ উইকেট এই ম্যাচ জিতে বোনাস-সহ সাত পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিত যুবরাজরা৷ আর বাংলার শেষ আটে যাওয়ার জন্য দরকার ছিল ১৫ ওভারে পঞ্জাবের ১০টি উইকেট৷ অর্থাৎ ম্যাচ জিতে ছ’ পয়েন্ট পেলেই ২৮ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারতেন মনোজ-দিন্দারা৷ কিন্তু প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতার খেসারত দিল বাংলা৷

ম্যাচের শেষ এক ঘণ্টা টি-২০ ক্রিকেটের মজা নেন ম্যাচের শ’খানেক দর্শক৷ সল্টলেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার বাতাবরণ তৈরি করেছিলেন মনপ্রীত সিং গোনি৷ লম্বা চেহারার পঞ্জাবের এই ডানহাতি পেসারের হার্ড হিটিং ব্যাটিং বঙ্গশিবিরে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছিল৷ ২৮ বলে গোনির ছ’ ছক্কা-সহ ৫৮ রানের ইনিংসে জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে ছিল পঞ্জাব৷ গোনি ও যুবরাজের জুটিতে জয়ের পথে হাঁটে মনদীপরা৷ ৮ বলে ১২ রান করে রান-আউট হন যুবরাজ৷ যুবি প্যাভিলিয়নে ফেরার পরেও পঞ্জাবের লড়াই জারি রাখেন গোনির ধামাকাদার ব্যাটিং৷ কিন্তু প্রদীপ্ত প্রামানিক গোনিকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠানোর পর অবশ্য রান তাড়া করা থেকে সরে আসে পঞ্জাব৷

বাংলা অবশ্য এক জোড়া সহজ ক্যাচ না-ফেলে ম্যাচের পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত৷ ম্যাচের শুরুতেই প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিকারী আনমলপ্রীতের ক্যাচ ছাড়েন অভিষেক রমন৷ পরে গোনির সহজ ফস্কান ঋত্বিক চট্টোপাধ্যায়৷ গোনিকে দ্রুত ফেরাতে পারলে মনোজদের সামনে একটা ফাটকা সুযোগ থাকত৷ গোনি ঝোড়ো ইনিংস ছাড়াও ক্যাপ্টেন মনদীপ ২৩ বলে ৩৫ রান করেন৷ ১৫ ওভারে পঞ্জাব পাঁচ উইকেটে ১৩২ রান তোলার পর ম্যাচের আয়ু ফুরিয়ে যায়৷

প্রথম ইনিংসে ২৬০ রানে পিছিয়ে থাকার পর অভিমন্যু ঈশ্বরন ও ক্যাপ্টেন মনোজ তিওয়ারির ব্যাটে ম্যাচে ফেরে বাংলা৷ স্বপ্নের ফর্মে থাকা ঈশ্বরনের ব্যাট থেকে আগে ২০১ রানের অপরাজিত ইনিংস৷ প্রথমশ্রেণির ক্রিকেট কেরিয়ারে ঈশ্বরনের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির পরই ৬ উইকেটে ৪৩২ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংসে ডিক্লেয়ার্ড দেয় বাংলা৷ দুরন্ত সেঞ্চুরি করেন অধিনায়ক মনোজ৷ তবে ম্যাচ বাঁচানো ডাবল সেঞ্চুরির ফলে ম্যাচের সেরা হন ঈশ্বরন৷ চলতি মরশুমে রঞ্জিতে চারটি ম্যাচে তিনটি সেঞ্চুরি এসেছে বাংলার ডানহাতি ওপেনারের ব্যাট থেকে৷ এর আগে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ১৮৬ এবং ইডেনে দিল্লির বিরুদ্ধে ১৮৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন বঙ্গক্রিকেটের প্রতিশ্রুতিময় এই ব্যাটসম্যান৷