কলকাতা: জাপান থেকে জাম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে ফিলাডেলফিয়া। শতবর্ষে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গলের ফ্যান-ফোরামগুলির উদ্যোগে বিশ্বের ১০০টি দেশে উড়বে লাল-হলুদ পতাকা। এমন ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল আগেই। আর বুধের বিকেলে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রথম ধাপের সূচি ঘোষিত হল। অনুষ্ঠান ঘিরে বুধবার ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে বসেছিল চাঁদের হাট।

প্রাক্তন ফুটবলার মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, সুরজিৎ সেনগুপ্ত থেকে লাল-হলুদ জার্সি গায়ে বাইচুং ভুটিয়া। প্রাক্তন ফুটবলারদের উপস্থিতিতেই ক্লাবের সেন্টেনারি সেলিব্রেশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তারা। শতবর্ষের সেরা আবিষ্কার সম্মান পাচ্ছেন ‘পাহাড়ি বিছে’ অর্থাৎ ভারতীয় ফুটবলের আইকন বাইচুং ভুটিয়া। একথা প্রায় সকলেরই জানা। তবে বুধের বিকেলের অনুষ্ঠানে শতবর্ষে জীবনকৃতি সম্মানপ্রাপক হিসেবে ঘোষিত হল প্রাক্তন দুই দিকপাল মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য ও ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম।

আরও পড়ুন: টি-২০ বিশ্বকাপে ভিন্ন গ্রুপে ভারত-পাকিস্তান

পাশাপাশি শতবর্ষে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে ভারতগৌরব সম্মানে সম্মানিত করা হবে ‘৮৩-র বিশ্বজয়ী অধিনায়ক কপিলদেব নিখাঞ্জকে। প্রাথমিকভাবে ১ অগাস্ট ক্লাবে তাঁর উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত না থাকলেও এদিনের অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি কপিলদেবের উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় ক্লাবের পক্ষ থেকে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রায় দু’বছর ধরে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে ইস্টবেঙ্গল। আগামী ২৮ জুলাই সূচনা হবে তার।

এদিন ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ২৮ জুলাই সকাল সাড়ে ন’টায় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হবে কুমোরটুলি পার্ক থেকে। সেখানে মশাল জ্বালাবেন বর্ষীয়ান ফুটবলার সুকুমার সমাজপতি। ক্লাব তাঁবুতে এসে শেষ হবে ওই শোভাযাত্রা। সেখানে সুকুমার সমাজপতির হাত থেকে মশাল গ্রহণ করবেন ‘পাহাড়ি বিছে’। এরপর ক্লাব প্রাঙ্গনে সেই মশাল রাখা থাকবে প্রজ্জ্বলিত অবস্থায়।

আরও পড়ুন: কেকেআর নয়, সানরাইজার্সের প্রধান কোচ হলেন বিশ্বচ্যাম্পয়িন বেলিস

দীর্ঘদিন ধরেই শতবর্ষে পা দিতে চলা ক্লাবের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে উৎসুক ছিলেন ক্লাবের সভ্য-সমর্থকেরা। বিভিন্ন ফ্যান ক্লাব ও ফোরামগুলির উদ্যোগে ইতিমধ্যেই গৃহীত হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। যার মধ্যে অন্যতম বিশ্বের ১০০টি দেশে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পতাকা উত্তোলন। অবশ্যম্ভাবী ভাবে এই কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে সেরা ঘটনার সাক্ষী থাকবেন দেশের ফুটবল অনুরাগীরা, সন্দেহ নেই। পাশাপাশি আরও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যেমে ক্লাবের শতবর্ষকে স্মরণীয় রাখতে বদ্ধপরিকর ক্লাবকর্তারা।

একইসঙ্গে শতবর্ষেই ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে শেষবারের মত খেলে ক্লাব ফুটবলকে বিদায় জানানোর কথা জানিয়েছেন বাইচুং ভুটিয়া। এব্যাপারে দেবব্রত সরকারকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, ডুরান্ড অথবা কলকাতা লিগের ম্যাচেই সম্ভবত শেষ ম্যাচটি খেলবেন বাইচুং। মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্যই মাঠে নামবেন তিনি। তবে সেটা কোন টুর্নামেন্টে, সেটা কোচ আলেজান্দ্রোর সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প