স্বাগত ঘোষ, কলকাতা: গত কয়েকমাস ধরে ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বর্ণময় চরিত্র বোধহয় তিনিই। যত ঐতিহ্যশালী ক্লাবই হোক না কেন, নিয়মের জাঁতাকল দেশের সমস্ত ক্লাবে সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিৎ। ইস্টবেঙ্গলকে হয়তো সেই সবকটাই শেখাতে চেয়েছিলেন মিনার্ভা পঞ্জাব কর্তা রঞ্জিত বাজাজ। তাই জরিমানার বিনিময়ে লাল-হলুদের ট্রান্সফার ব্যান উঠে গেলেও তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন ছিপছিপে চেহারার ভদ্রলোকটি।

‘অফ দ্য ফিল্ড’ সেই বিতর্কিত অধ্যায়ের পর প্রথমবার মিনার্ভা পঞ্জাব মুখোমুখি হতে চলেছে ইস্টবেঙ্গলের। তাই মঙ্গলবার ম্যাচের আগে সোমের সকালে দলের প্রাক প্রস্তুতি দেখতে কলকাতায় হাজির রঞ্জিত বাজাজ। তিলোত্তমায় পা রেখে প্রতিপক্ষকে কোনওরকম কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি নয়, বরং কোয়েসের তত্ত্বাবধানে ইস্টবেঙ্গলের পেশাদারিত্বের প্রশংসাই শোনা গেল মিনার্ভা কর্তার গলায়।

আরও পড়ুন: জিভার কাছে নাচ শিখছেন ধোনি, ভাইরাল ভিডিও

তাহলে কি কোয়েস আসার আগে ইস্টবেঙ্গল ছিল অপেশাদার? প্রত্যক্ষ উত্তরে ফের বিতর্কের সরণিতে হাঁটার পক্ষপাতী ছিলেন না বাজাজ। তবে কর্তাদের অপেশাদারিত্বের কারণেই যে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে ট্রান্সফার ব্যানের মত ঘটনা ঘটেছে, হাবেভাবে বুঝিয়ে দিলেন তিনি। এপ্রসঙ্গে রঞ্জিত বাজাজের যুক্তি, ‘ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কোনও কর্তার সঙ্গে এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শত্রুতা আমার ছিল না। কিন্তু আপনার ঘরে চুরি হলে আপনি যেমন পুলিশে অভিযোগ করেন, এক্ষেত্রে ঠিক সেই কাজটাই আমি করেছি।’ এরপর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফেডারেশন নিয়েছে বলেই দাবি মিনার্ভা কর্তার।

আরও পড়ুন: ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে দুরন্ত জয় এটিকের

তবে মাঠের বাইরে বিতর্কের কারণে মিনার্ভা-ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের আলাদা মাত্রা পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বাজাজ। এপ্রসঙ্গে খানিকটা মজার ছলেই তিনি জানালেন, ‘আগে কেবল মোহনবাগান ম্যাচের আগেই এমন আবহ থাকত। এখন সেই তালিকায় নতুন সংযোজন মিনার্ভা।’

আরও পড়ুন: গ্রেগ চ্যাপেল সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য ভারতীয় তারকার

উল্লেখ্য, মিনার্ভা কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই মরশুমের শুরুতে তাদের ফুটবলারদের অবৈধ উপায়ে দলে নিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ঘটনাটিকে মোটেই ভালো চোখে নেননি পঞ্জাবের দলটির কর্তা রঞ্জিত বাজাজ। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই ইস্টবেঙ্গলের ট্রান্সফার ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ফেডারেশন। কিন্তু জরিমানার বিনিময়ে ট্রান্সফার ব্যানের গেরো থেকে অবশেষে মুক্তি পেয়েছে সদ্য কর্পোরেট হওয়া ক্লাবটি। এপ্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে লাল-হলুদের চক্ষুশূল মিনার্ভা কর্তার কথায়, ইস্টবেঙ্গল ক্লাব সাময়িক যে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দিয়ে গেছে তিনি তাতেই খুশি। ফেডারেশনের এই পদক্ষেপের ফলে ভারতবর্ষের যে কোনও ক্লাব পুনরায় অসৎ উপায়ে ফুটবলার দলে নেওয়ার বিষয়ে দু’বার ভাববে।