কলকাতা: আইএসএল চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু এফসি থেকে তিন বছরের চুক্তিতে ইস্টবেঙ্গলে সই করলেন বোইথাং হাওকিপ। ট্রান্সফার ফি দিয়েই মণিপুরী উইঙ্গারকে আগামী তিন মরশুমের জন্য দলে নিল আই লিগ রানার্সরা। সম্প্রতি আগামী মরশুমের জন্য ধনচন্দ্র, আশুতোষ মেহেতার মত অভিজ্ঞ দেশীয় ফুটবলারকে দলে নিয়েছে পড়শি ক্লাব মোহনবাগান। তারই পালটা হাওকিপকে নিজেদের জালে নিলেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা।

পাহাড়ি দল শিলং লাজংয়ের হয়ে ২০০৯ সিনিয়র কেরিয়ার শুরু করেছিলেন এই মণিপুরী ফুটবলার। সাত মরশুম লাজংয়ের জার্সি গায়ে ৮৯ ম্যাচে ১৩ গোল করা হাওকিপকে ২০১৪ লোনে দলে নিয়েছিল আইএসএল ফ্র্যাঞ্চাইজি নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড। মূলত উইঙ্গার হলেও দলের প্রয়োজনে বিভিন্ন পজিশনে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন ফ্রি-কিকে সিদ্ধহস্ত বছর আঠাশের এই ফুটবলার।

শিলং লাজং থেকে ২০১৬ পাকাপাকিভাবে আইএসএলে মুম্বই সিটি এফসি’তে যোগদান করেন হাওকিপ। যদিও মুম্বই এফ সি’র হয়ে বিশেষ খেলার সুযোগ পাননি পাহাড়ি ফুটবলারটি। ২০১৭ মরশুমে প্রথমবার আইএসএল মঞ্চে পদার্পনের বছরে নির্ভরযোগ্য এই ফুটবলারকে দলে নেয় বেঙ্গালুরু এফ সি। দুটি মরশুমে বেঙ্গালুরুর জার্সি গায়ে ২১ ম্যাচে মাত্র ২ গোল করলেও ইউটিলিটি ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন হাওকিপ। ২০১৮ এএফসি কাপে ট্রান্সপোর্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরু জার্সি গায়ে গোল রয়েছে তাঁর।

দেশীয় ফুটবলার রিক্রুটের বিষয়ে চলতি মরশুমের শুরু থেকেই বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। কোচ আলেজান্দ্রো মেনেনদেজের সঙ্গে আলোচনে করেই হাওকিপকে নেওয়ার জন্য ঝাঁপায় ইস্টবেঙ্গল। গত মাসে নেরোকা এফসি থেকে মিডফিল্ডার তোনদম্বা সিংয়ের পর ২০১৯-২০ মরশুম শুরুর আগে দ্বিতীয় ভারতীয় ফুটবলার হিসেবে অফিসিয়ালি লাল-হলুদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেন বোইথাং। পাহাড়ি ফুটবলারটির গতি ও অভিজ্ঞতা আগামিদিনে ইস্টবেঙ্গলের সম্পদ হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কোয়েস ইস্টবেঙ্গলের অফিসিয়াল পেজে হাওকিপের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। আর ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে তিনবছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে হাওকিপ জানান, ‘কোয়েস ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পেরে আমি গর্বিত। ফুটবল কেরিয়ারের শুরু থেকে ইস্টবেঙ্গলে খেলার স্বপ্ন দেখে এসেছি। আগামী দিনে ক্লাবে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেব।’

হাওকিপের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পাশাপাশি ফিজিক্যাল ট্রেনার কার্লোস নোদারের সঙ্গেও ২০২১ অবধি চুক্তি বর্ধিত করল শতবর্ষে পা রাখতে চলে কলকাতা জায়ান্টরা।