কলকাতা: বিগত কয়েকবছর ধরে লাস্ট ‘লাইন অফ ডিফেন্স’ অর্থাৎ গোলরক্ষক সমস্যায় বোধহয় সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে। গত মরশুমের চিত্রটা তো আরও দুর্বিসহ। তিনকাঠির নীচে রক্ষিত ডাগর বল ধরতে এলেই গ্যালারিতে তৈরি হত আতঙ্কের পরিবেশ। তাই আগামী মরশুমে দলে গোলরক্ষক সমস্যা মেটাতে বদ্ধপরিকর ছিলেন কোয়েস ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। সেই লক্ষ্যে নতুন গোলরক্ষক হিসেবে দিনকয়েক ধরেই  একটি নাম ঘোরাফেরা করছিল ক্লাবের অন্দরমহলে। শুক্রবার সকালে সেই জল্পনাকে মান্যতা দিয়েই এফসি গোয়া থেকে আগামী মরশুমের জন্য লালথুয়ামাওয়াইয়া রালতের ক্লাবে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হল।

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে লালথুয়ামাওয়াইয়ার ক্লাবে যোগদান সম্পর্কে অনুরাগীদের জ্ঞাত করে কোয়েস ইস্টবেঙ্গল। আইএসএলের ক্লাবটি থেকে লোনে একবছরের জন্য লাল-হলুদে যোগদান করতে চলেছেন রালতে। অর্থাৎ আগামী মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপিং বিভাগেও মিজো কানেকশন। ২০১৮ যোগদানের পর থেকে আইএসএল ফ্র্যাঞ্চাইজি এফসি গোয়া’তে বিশেষ মাঠে নামার সুযোগ হয়নি বছর ছাব্বিশের এই গোলরক্ষকের। তাই চলতি বছরের শুরুতে লোনে কেরল ব্লাস্টার্সে যোগ দেন তিনি। সেখানেও তিনকাঠির নীচে নিজেকে সেভাবে প্রমান করার সুযোগ পাননি এই মিজো গোলরক্ষক।

তবে সূত্রের খবর, কোচ আলেজান্দ্রোর নির্দেশমতো গোলরক্ষক সমস্যা মেটাতে মরশুম শেষ হতেই রালতেকে পেতে ঝাঁপিয়েছিল লাল-হলুদ। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে পাকাপাকিভাবে শিলমোহর পড়ল বিষয়টিতে। সিনিয়র ফুটবল কেরিয়ারে রালতে তাঁর ভালো সময় কাটিয়েছেন শিলং লাজং এফসি ও বেঙ্গালুরু এফসি’র হয়ে। ২০১১-১৪ পাহাড়ি ক্লাব শিলংয়ের হয়ে ৪০টি ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন লালথুয়ামাওয়াইয়া। এরপর বেঙ্গালুরু এফসি’তে যোগদানের পর ২০১৬ আই লিগ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১৫ এএফসি কাপ ফাইনালে ব্লু জার্সিতে মাঠে নামেন লাল-হলুদের নতুন মিজো গোলরক্ষক।

স্বদেশী-বিদেশি মেলবন্ধনে মেলবন্ধনে প্রত্যেক বিভাগেই আগামী মরশুমের জন্য নিজেদের শক্তি গুছিয়ে নিচ্ছে ইস্টবেঙ্গল। বিদেশি হিসেবে বোরহা, কাশিম এবং কোলাডো চূড়ান্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার নতুন সহকারি কোচ ঘোষণা করেছে পদ্মাপাড়ের ক্লাব। মারিও রিভেরার পরিবর্তে আলেজান্দ্রো মেনেনদেসের নতুন সহকারী হতে চলেছেন স্প্যানিশ জোসেপ ফেরে। ফুটবল মহলে ‘কোকো’ নামে পরিচিত লাল-হলুদের নতুন সহকারী কোচ এর আগে বুরিরাম ইউনাইটেডেও আলেজান্দ্রোর সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী জোসেপের ক্রীড়াবিজ্ঞানে বিশেষ ডিগ্রি এবং ভিডিও অ্যানালিস্ট হিসেবে সুখ্যাতি রয়েছে।