কলকাতা: শেষবেলায় ইস্টবেঙ্গলকে বিপদে ফেলে সম্পর্ক ছিন্ন করল কোয়েস। চলতি মরশুম শেষে কোয়েসের সঙ্গে লাল-হলুদের দু’বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার কথাই ছিল। তবে চুক্তিটা ছিল ২০২০ মে অবধি। কিন্তু করোনার জেরে সৃষ্টি হয়েছে উদ্ভূত পরিস্থিতি। এমনই কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ের একমাস আগেই ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল কোয়েস। ফলে একমাসের পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা।

ক্লাব সূত্রের খবর, ‘ফোর্স মেজর’ অর্থাৎ ‘জরুরি পরিস্থিতি’র কারণে এমন একটি অনভিপ্রেত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেঙ্গালুরুজাত কোয়েস গ্রুপ। এমনিতেই ইনভেস্টর গ্রুপের সঙ্গে ক্লাব কর্তাদের মনোমালিন্য দীর্ঘদিনের। তার উপর শেষ বেলায় কোয়েসের এমন একটি সিদ্ধান্তে লাল-হলুদ কর্তাদের তীব্র আপত্তি থাকলেও তাদের করণীয় কিছুই নেই। বাধ্য হয়েই কোয়েসের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হচ্ছে লাল-হলুদ কর্তাদের।

ই-মেলের মাধ্যমে কোয়েস কর্তা সঞ্জিত সেন ফুটবলারদের বেতন থেকে বঞ্চিত হওয়ার খবরটি জানিয়ে দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।

ক্লাবের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিক্ষুব্ধ লাল-হলুদ ফুটবলাররা আইনি পথে হাঁটার কথা ভেবেছেন বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ফুটবলাররা তাদের এজেন্টদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন বলেও সূত্রের খবর। যদিও কোয়েসের দাবি ভিন্ন।

ইনভেস্টর গ্রুপের কথায়, ফুটবলাররা যদি ফিফাতেও যান তাহলেও বিশেষ লাভ হবে না। কারণ করোনার জেরে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ক্লাবের থেকে ফুটবলারদের কম বেতন নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইতিমধ্যেই। তাহলে সুযোগ বুঝেই কী শেষবেলায় এমন কান্ড ঘটালেন কোয়েস কর্তারা। প্রশ্ন থাকছেই।

এদিকে কোয়েস বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই ইস্টবেঙ্গলের স্পনসরহীন হয়ে যাওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেল। কোয়েস শেষবেলায় কেন এমনটা করল সে বিষয়ে সদুত্তর না থাকলেও সামনের মরশুমে দল গঠন যখন দারুণ উদ্যমে শুরু করেছে ইস্টবেঙ্গল, তখন এমন একটি ঘটনা যে ক্লাব কর্তাদের ফোকাস নষ্ট করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

ইতিমধ্যে ইরানের ওমিদ সিং, এটিকে থেকে বলবন্ত সিং, মোহনবাগান থেকে লালরাম চুলোভাকে ছিনিয়ে নিয়ে চমক দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প