ইম্ফল: ধারে এবং ভারে ভারতীয় ফুটবলে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ‘দুধের শিশু’ নেরোকা এফসি। তাই মণিপুরের ক্লাবটির বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের জয় আপাতদৃষ্টিতে যে স্বাভাবিক, সেবিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু পঞ্জাব থেকে সোমবার পাহাড়ে পৌঁছে ক্লান্ত লাল-হলুদ ফুটবলাররা একটিও প্র্যাকটিস সেশনের সুযোগ পাননি। স্রেফ ভিডিও সেশনের মধ্যে দিয়ে লিগে প্রথম জয়ের স্ট্র্যাটেজি ছকেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের স্প্যানিশ বস। আর মঙ্গলবার দুপুরে ইম্ফলের খুমান লম্পক স্টেডিয়ামে সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিপক্ষকে ৪ গোল দিলেন কোলাডোরা। পাহাড়ে গিয়ে নেরোকাকে হারিয়ে চলতি আই লিগের তৃতীয় ম্যাচে জয়ের মুখ দেখল কলকাতা জায়ান্টরা।

ম্যাচের আগে নীরবতা ভেঙে ম্যানেজমেন্টকে একহাত নিয়েছিলেন বিরক্ত লাল-হলুদ কোচ আলেজান্দ্রো মেনন্দেজ গার্সিয়া। তাই এই ম্যাচে অনভিপ্রেত কোনও ফলাফল দলের অন্দরমহলে চাপ বাড়িয়ে তুলত সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু পাহাড়ের উচ্চতায় নিজেদের মেলে ধরে আপাতত অনুরাগী ও ম্যানেজমেন্টকে স্বস্তি দিলেন কোলাডোরা। গোলের খাতায় নাম তুললেন তিন স্প্যানিশ ফুটবলার। জোড়া গোল হাইমে কোলাডোর, বাকি দু’টি গোল জুয়ান মেরা ও এসপাদা মার্টিনের। মূলত প্রথম দু’টি নাম এদিন ফুল ফোটালেন দলের আপফ্রন্টে। আর গত দুই ম্যাচে গোল নষ্টের প্রদর্শনী করে হতাশা বাড়ানো এসপাদা মার্টিনও পারফরম্যান্সের নিরিখে ছাপিয়ে গেলেন নিজেকে।

যদিও ম্যাচের নবম মিনিটে জুয়ান মেরার কর্নার থেকে দলকে এগিয়ে দেওয়ার সহজ সুযোগ এদিনও নষ্ট করেন এসপাদা। তবে ২০ মিনিটে গত দু’ম্যাচের নায়ক জুয়ান মেরাকে বক্সে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। স্পটকিক থেকে নিশানায় অব্যর্থ থেকে চলতি আই লিগে দলকে প্রথমবারের জন্য এগিয়ে দেন হাইমে কোলাডো। কিন্তু ৩১ মিনিটে চানসো হোরামের ক্রস থেকে অরক্ষিত বৌবাকর দিয়ারা গোল করে ম্যাচে সমতায় ফিরিয়ে আনেন হোম টিমকে। দু’মিনিটে বাদে জুয়ান মেরার দর্শনীয় ফ্রি-কিক জালে জড়াতে ম্যাচে ফের এগিয়ে যায় আলেজান্দ্রোর দল।

বিরতির পর ব্যবধান আরও সুরক্ষিত করতে মাত্র ছ’মিনিট সময় নেয় অ্যাওয়ে দল। ইস্টবেঙ্গলের একটি আক্রমণ এক্ষেত্রে নিজেদের বক্সে হাতে লাগিয়ে মারাত্মক ভুল করেন হোরাম। পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করে যান কোলাডো। উল্টোদিকে ৬২ মিনিটে নেরোকার একটি প্রয়াস ক্রসবারে প্রতিহত না হলে খেলার ফল অন্যরকম হতেই পারত। সে যাইহোক, দিনটা ছিল পুরোপুরি ইস্টবেঙ্গলের। ৬৪ মিনিটে ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার পান এসপাদা মার্টিন। পিন্টু মাহাতা’র ডানপ্রান্তিক ক্রস থেকে কার্যত বিনা বাধায় ব্যবধান ৪-১ করে যান স্প্যানিশ স্ট্রাইকার।

এরপরেও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের। তেমনই নেরোকাকে ব্যবধান কমানো থেকে কয়েকটি ক্ষেত্রে বঞ্চিত করেন লাল-হলুদ দুর্গের শেষ প্রহরী রালতে। সবমিলিয়ে বড় জয়ে পাহাড় থেকে তিন পয়েন্ট নিয়ে ফেরা নিশ্চিত করে ইস্টবেঙ্গল, তাও আবার হেকটিক শিডিউলকে উপেক্ষা করেই। সেইসঙ্গে তিন ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে তিন নম্বরে উঠে এল আলেজান্দ্রোর ছেলেরা।