কলকাতা: আইএসএল চ্যাম্পিয়নকেই দেওয়া হোক এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যোগ্যতার ছাড়পত্র। প্রত্যক্ষভাবে না হোক, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের কাছে এমনই দাবি তুলে ধরে আইএসএল-কে পরোক্ষভাবে দেশের সর্বোচ্চ লিগ ঘোষণা করেছে ভারতের ফুটবল ফেডারেশন। আর এতেই বেজায় চটেছে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান সহ আই লিগের ক্লাব জোট। তবে আইএসএল হোক কিংবা আই লিগ, দেশের সেরা লিগে খেলতে চেয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীর শরণাপন্ন ইস্ট-মোহন কর্তারা।

শুক্রবার দুই প্রধানেই খেলা জাতীয় দলের প্রাক্তন গোলরক্ষক তথা বিগত লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চৌবের উদ্যোগে রাজ্যের বিজেপি পর্যবেক্ষকের সঙ্গে দেখা করেন দু’প্রধানের কর্তারা। মোহনবাগানের তরফ থেকে উপস্থিত ছিলেন দেবাশিস দত্ত ও সৃঞ্জয় বোস এবং ইস্টবেঙ্গলের তরফ থেকে উপস্থিত ছিলেন দেবব্রত সরকার ও শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত। ইতিমধ্যেই আই লিগকে বাঁচানোর দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দরবারে খোলা চিঠিতে আর্জি জানিয়েছে আই লিগ ক্লাব জোট।

আর এবার মূলত দেশের সেরা লিগে খেলতে কল্যাণ চৌবের নেতৃত্বে কৈলাস বিজয়বর্গীর শরণাপন্ন বাংলার দুই ক্লাব। তাদের দাবি দেশের সেরা লিগ থেকে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের মত দুই ঐতিহ্যশালী ক্লাবকে ছেঁটে ফেলে ফেডারেশন আদতে বাংলা ফুটবলের অবমাননা করছে। দুই ক্লাবের প্রতিনিধিরা রীতিমতো এই দাবি নিয়ে সরব হন বিজয়বর্গীর কাছে। পাশাপাশি দুই প্রধানকে যাতে দেশের এক নম্বর লিগে খেলতে দেওয়া হয়, এমনই প্রস্তাব রাখেন দেবাশিষ-দেবব্রতরা। কল্যাণ চৌবের নেতৃত্বেই মূলত কলকাতায় এই সাক্ষাতের বন্দোবস্ত করা হয়।

আলোচনে কতটা ফলপ্রসূ হবে সেটা সময় বলবে। তবে দুই প্রধানের কর্তাদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন রাজ্যের বিজেপি পর্যবেক্ষক। বিজয়বর্গীর কথায়, ‘যে স্তরে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব, আমি সেই স্তরে গিয়েই আলোচনা করব।’ পাশাপাশি বাংলার দুই ক্লাবের গরিমার কথা মাথায় রেখে তাঁদের যাতে শ্রেষ্ঠ লিগে খেলতে দেওয়া হয়, সেব্যাপারে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরণ রিজিজুর সঙ্গেও গোটা বিষয়ে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

বাংলা ফুটবলে এমন সংকট মুহূর্তে কল্যাণ চৌবের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান বাগান কর্তা দেবাশিস দত্ত। আর যার নেতৃত্বে এই মহৎ উদ্যোগ সেই কল্যাণ চৌবে জানান, ‘রোজই কাগজে দেখছি ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের মত ক্লাবকে কার্যত দেশের দ্বিতীয় ডিভিশনের মত লিগ খেলতে হতে পারে। ফুটবলের সাথে যুক্ত ভারতবর্ষের যে কোনও মানুষ মনে হয় এ কথায় খুশি হবেন না। তখনই আমি দেবাশিস দত্ত ও নীতু দা’র (দেবব্রত সরকার) সঙ্গে কথা বলে রাজ্যের বিজেপি পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গী মারফৎ যদি প্রধানমন্ত্রী বা ক্রীড়ামন্ত্রী কাছে পৌঁছনো যায়, সেই উদ্যোগই আমরা গ্রহণ করেছি।’