কলকাতা: শেষ ল্যাপে এসে ক্রমশ উত্তেজক হয়ে উঠছে কলকাতা প্রিমিয়র লিগ ২০১৯। সালটা ১৯৫৮, স্বাধীনোত্তর ভারতবর্ষে তিন প্রধানের বাইরে একমাত্র দল হিসেবে কলকাতা লিগ জিতেছিল ইস্টার্ন রেল। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ছয় দশক। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান কিংবা মহামেডানের বাইরে গিয়ে কলকাতা লিগের শিরোপা জিততে পারেনি অন্য কোনও ক্লাব। তীরে এসেও একাধিক ক্ষেত্রে তরি ডুবেছে ছোট দলগুলোর। চলতি কলকাতা লিগে তেমনই এক ইতিহাস তৈরির মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে তাল ঠুকছে জহর দাসের পিয়ারলেস।

৯ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে এখনও লিগ জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে বীমা কোম্পানির দলটি। আক্রমণভাগে দলের মূল স্তম্ভ আনসুমানা ক্রোমাকে ছাড়া গত ম্যাচে হারতে হয়েছে মহামেডান স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে। যা লিগ জয়ের লক্ষ্যে সামান্য হলেও ধাক্কা দিয়েছে জহর দাসের দলকে। তবে মহামেডানের বিরুদ্ধে হার নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাতে নারাজ পিয়ারলেস কোচ। লিগ জয়ের দৌড়ে তারাই এখনও সবচেয়ে ‘অ্যাডভান্টেজ’ বলে মনে করেন ময়দানের পোড় খাওয়া কোচ। কারণ শেষ দু’ম্যাচ জিতলে নিশ্চিত চ্যাম্পিয়ন তারা।

অন্যদিকে পিয়ারলেসকে হারিয়ে দীর্ঘ ৩৮ বছর পর কলকাতা লিগ জয়ের হাতছানি সাদা-কালো ব্রিগেডের কাছে। টেকনিক্যাল এরিয়া বা ড্রেসিংরুমে চলতি মরশুমে টিডি হিসেবে দীপেন্দু বিশ্বাসের উপস্থিতি যেন বদলে দিয়েছে মহামেডান স্পোর্টিংয়ের খোলনলচে। সাম্প্রতিক সময়ে লিগে সবচেয়ে ভালো ফল বলতে ২০১৬ রানার্স। বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে লিগের শেষ ম্যাচ খেলতে নামার আগে ১০ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে সাদা-কালো ব্রিগেড। তাই লিগ জিততে ইস্টবেঙ্গলকে হারানো ছাড়া গতি নেই মহামেডানের। তবে ম্যাচ জিতলেও পিয়ারলেসের পয়েন্ট নষ্টের দিকে তাকিয়ে থাকতেই হবে তাদের।

লিগ জয়ের দাবিদার হিসেবে তিন নম্বরে অবশ্যই ইস্টবেঙ্গল। পিয়ারলেসের মতই ৯ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট অর্জন করলেও গোলপার্থক্যে লিগ টেবিলে চার নম্বরে তারা। এরইমধ্যে মঙ্গলবার সাদার্নকে হারিয়ে ১০ ম্যাচে সমসংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে তিনে উঠে এসেছে মোহনবাগান। জটিল কোনও অংকে লিগ জয়ের স্বপ্ন বেঁচে থকলেও সবুজ-মেরুনের হাতে আর মাত্র একটি ম্যাচ থাকায় লিগ জয়ের সম্ভাবনা থেকে অনেকটাই দূরে গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে শেষ দু’ম্যাচে অভিজ্ঞতায় বাজি মেরে ফের শিরোপা দখলের সম্ভাবনা ইস্টবেঙ্গলের দিকেই ঝুঁকে।

যদিও সেক্ষেত্রে আলেজান্দ্রো ব্রিগেডের সামনে কাঁটা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা সাদা-কালো ব্রিগেডের। বৃহস্পতির মিনি ডার্বিই সেক্ষেত্রে নির্ণায়ক বলে মনে করছেন অনেকে। তবে তারপরেও লাল-হলুদকে তাকিয়ে থাকতে হবে শেষ দু’ম্যাচে পিয়ারলেসের পা হড়কানোর দিকে।

লিগের অংকে কোথায় দাঁড়িয়ে কে:
পিয়ারলেস: ৯ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগে এই মুহূর্তে দ্বিতীয়স্থানে থাকলেও লিগ জয়ে সবচেয়ে অ্যাডভান্টেজ পিয়ারলেস। কারণ শেষ দু’ম্যাচ জিতলে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি চ্যাম্পিয়ন তারা। কারণ গোলপার্থক্যে বেশ এগিয়ে তারা। সেক্ষেত্রে কারও দিকে তাকানোর দরকার নেই পিয়ারলেসের। একটি ম্যাচ জিতলে অন্যটি ড্র করলে বা হারলে সেক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গল কিংবা মহামেডানের পয়েন্ট নষ্টের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের। অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের মিনি ডার্বি’তে চোখ থাকবে তাদের। ম্যাচ অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হলে সবচেয়ে লাভবান হবে জহর দাসের দল।

মহামেডান: ১০ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত লিগ শীর্ষে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে সমস্তকিছু। কারণ লাল-হলুদের বিরুদ্ধে হার বা ড্র তাদের লিগের দৌড় থেকে ছিটকে দেবে অনেকটাই। তাই সেক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে তবেই পিয়ারলেসের পয়েন্ট নষ্টের দিকে চোখ রাখতে হবে তাদের। কারণ শেষ ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলকে হারালে মহামেডানের পয়েন্ট সংখ্যা দাঁড়াবে ২২-এ।

ইস্টবেঙ্গল: ৯ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়েও গোলপার্থক্যে চার নম্বরে তারা। তাই শেষ দু’ম্যাচ জিতলেও নিশ্চিতভাবে যে চ্যাম্পিয়ন তারা সেকথা বলা যাচ্ছে না। তবে লিগ জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি মহামেডানের বিরুদ্ধেই খেলতে নামছে তারা। এই ম্যাচে পদস্খলন হলে লিগ জয়ের আশা ছেড়ে দেওয়াই শ্রেয়। তবে মহামেডানের বিরুদ্ধে জয় এলেই কার্যসিদ্ধি হবে না। শেষ ম্যাচেও জয় দিয়েই লিগের শিরোপা ফের দখল করার লক্ষ্য রাখতে হবে লাল-হলুদকে। কারণ গোলপার্থক্যে পিছিয়ে থাকায় শেষ দু’ম্যাচে পিয়ারলেসের পয়েন্ট নষ্ট ছাড়া গতি নেই লাল-হলুদের।