কলকাতা: সমস্যার গিঁট খোলার কোনও সম্ভাবনা নেই, উলটে সমস্যা যেন আর জট পাকাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে (East Bengal Club)। বিনিয়োগকারী এবং ক্লাবের মধ্যে চূড়ান্ত টর্মশিট স্বাক্ষর হওয়া নিয়ে যখন রফাসূত্র কিছুতেই বেরোচ্ছে না ঠিক সেই সময় ফের ট্রান্সফার ব্যানের মত খাড়া ধেয়ে আসতে চলেছে ইস্টবেঙ্গলের দিকে।

সমস্যাটা সেই কোয়েস (Quess) আমলের। পুরনো ইনভেস্টরের সময়ে ইস্টবেঙ্গলে খেলে যাওয়া একাধিক ফুটবলার, ফিজিক্যাল ট্রেনার বকেয়া বেতন না পেয়ে দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার (FIFA)। ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে বকেয়া বেতন পরিশোধের কথা জানালে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয় তাদের পক্ষে বিপুল পরিমাণ বকেয়া মেটানো সম্ভব নয়। আর কোয়েসের বাকি রেখে যাওয়া ধার মেটাতে অস্বীকার করে নয়া ইনভেস্টর শ্রী সিমেন্ট।

যদিও শ্রী সিমেন্টের এই প্রত্যাখ্যান প্রাথমিক টার্মশিটে প্রস্তাবিত চুক্তির বিরোধী। কিন্তু ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কথায় কাজ না হওয়ায় ফুটবলাররা ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে শেষমেশ দ্বারস্থ হন কোর্ট অফ অ্যাট্রিবিউশন ফর স্পোর্টস বা ক্যাস-এর (CAS)। ক্রীড়াক্ষেত্রে যে কোনও ইস্যুতে চুড়ান্ত আবেদনের জায়গা এটি। সেই ‘ক্যাস’ এবার ফুটবলারদের বকেয়া না মেটানোর কারণে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে আনুমানিক ৪ কোটি টাকা জরিমানা করতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। সেই জরিমানা মেটানোর জন্য বেঁধে দেওয়া হবে নির্দিষ্ট সময়সীমাও।

সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে বিদেশি ফুটবলার দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি হবে লাল-হলুদে। যা রীতিমতো উদ্বেগের। এমনিতেই সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারী-ক্লাবকর্তাদের মধ্যে চিঠি চালাচালি নিয়ে একপ্রকার তিতিবিরক্ত সমর্থকেরা। অন্যান্য আইএসএলের (ISL) ক্লাবগুলো যখন দল গুছিয়ে নিয়েছে তখন ইস্টবেঙ্গলে শুধুই হাহাকার একটা সই ঘিরে। বিনিয়োগকারী সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর হরিমোহন বাঙ্গুর (Hari Mohan Bangur) সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি নিজেই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান। সমর্থকদের আশ্বস্ত করার মতো কোনও উপাদান নেই তাঁর হাতে।

চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতা না মিটলে বিনিয়োগকারী সংস্থা যে নতুন করে ক্লাবে আর বিনিয়োগ করবে না সেটা নিশ্চিত। ফলে জরিমানার অর্থ সংকুলান কার্যত অসম্ভব। চুক্তি সংক্রান্ত সমস্যা মিটে গেলেও জরিমানার অর্থ প্রদান করার দায় শ্রী সিমেন্টের বর্তায় কীনা, এখন সেটাই দেখার।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.