কলকাতা: অবনমনের আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে এসেছিল আগেই। এরপর গত দু’ম্যাচে জয়ের ধারাবাহিকতা দেখাতে পারলে লিগ টেবিলে এদিন দু’য়ে উঠে আসতে পারত মারিও রিভেরার ছেলেরা। কিন্তু হল না। যুবভারতীতে মরশুমের প্রথম হোম ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ড্র করে বসল ইস্টবেঙ্গল। বরং বলা ভালো ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে সমতা ফিরিয়ে গোয়ান জায়ান্টদের বিরুদ্ধে হার এড়াল গতবারের রানার্সরা।

ট্রাউ ম্যাচের একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনে ফার্নান্দো তাবারেজের দলের বিরুদ্ধে স্ট্র্যাটেজি সাজিয়েছিলেন রিভেরা। কিন্তু ঘরের মাঠে শুরু থেকেই বল নিজেদের দখলে রেখে লাল-হলুদকে চাপে ফেলার চেষ্টায় ছিলেন প্লাজারা। বিপক্ষে রক্ষণে চাপ জারি রাখার সুফল পেতে বিশেষ সময়ও নেয়নি গোয়ার দলটি। মেহতাব সিং’য়ের দুর্বল ক্লিয়ারেন্স ধরে আশির আখতারকে বোকা বানিয়ে ১০ মিনিটেই চার্চিলকে এগিয়ে দেন লাল-হলুদের প্রাক্তনী প্লাজা। চলতি আই লিগে এটি তাঁর অষ্টম গোল।

যদিও স্বল্প সময়ের মধ্যেই ম্যাচে ফিরে আসতে পারত লাল-হলুদ। কোলাডো, মার্কোস হয়ে ব্র্যান্ডনের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় পরের মিনিটেই। এই সময় সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে চার্চিল দুর্গে বারকয়েক হানা দেয় লাল-হলুদ ফুটবলাররা। একটি ক্ষেত্রে চার্চিলের তিনকাঠির নীচে ত্রাতা হয়ে ওঠেন জেমস কিথান। এসপাদা মার্টিনের লো ক্রস থেকে কোলাডোর শট বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে দুরন্ত ক্ষিপ্রতায় রক্ষা করেন তিনি।

কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হঠাতই ম্যাচ থেকে হারিয়ে যেতে থাকে রিভেরার দল। লাল-হলুদ বক্সে তখন দাপট দেখাচ্ছেন সক্রেটিস-প্লাজারা। যদিও প্রতি আক্রমণে একটি ক্ষেত্রে সুযোগ পেয়েছিলেন মেরা কিন্তু তা শেষ অবধি ফলপ্রসূ হয়নি। উলটোদিকে ডিফেন্ডারদের তৎপরতায় প্রথমার্ধে আর গোলও হজম করেনি ইস্টবেঙ্গল।

দ্বিতীয়ার্ধে নয় মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন মেরা। ওয়ান টু ওয়ান পজিশনে কিথানকে পরাস্ত করে জালে বল রাখতে ব্যর্থ হন সেল্টা ভিগো ‘বি’ দলের প্রাক্তনী। পরিবর্ত হিসেবে নেমেই ৭০ মিনিটে জালে বল রাখেন আনসুমানা ক্রোমা। কিন্তু নবাগত পেরেজের সেটপিস থেকে ভাসানো বলে হেডের সময় অফসাইডে ছিলেন লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকার। ৭৭ মিনিটে মেরার কর্নার থেকে মেহতাবের শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়। একসময় মনে হচ্ছিল যুবভারতী থেকে তিন পয়েন্ট নিয়েই হয়তো ফিরবে চার্চিল।

কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে নাটক। বক্সে লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকারকে অবৈধভাবে ফেলে দেন সুরেশ মিতেই। নায্য পেনাল্টি থেকে ইস্টবেঙ্গলকে বঞ্চিত করেননি রেফারি। কিন্তু কোলাডোর স্পটকিকেও টুইস্ট। পেনাল্টি থেকে স্পোর্টিং গিজন ‘বি’ দলের প্রাক্তনীর নেওয়া শট রুখে দেন কিথান। ফিরতি বল জালে রেখে দলের ১ পয়েন্ট নিশ্চিত করেন কোলাদো। এই ড্র’য়ের ফলে ১৪ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে চারে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল।