ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: পুলিশের অনুমতি পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতের দিকে ইস্টবেঙ্গল-কাস্টমস ম্যাচের নির্ঘন্ট জানিয়ে চিঠি দিয়ে দুই ক্লাবকে সূচী জানিয়ে দিয়েছিল আইএফএ। আইএফএ নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী ৩ অক্টোবর দুপুর ২:৩০ মিনিটে কল্যাণী স্টেডিয়ামে কাস্টমসের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল লাল-হলুদের। কিন্তু ম্যাচের আগেরদিন লিগে তাদের শেষ ম্যাচ খেলার ব্যাপারে বেঁকে বসল লাল-হলুদ।

আইএফএ’র চিঠি পাওয়ার পর কাস্টমস ম্যাচ খেলতে রাজি হলেও বেঁকে বসে ইস্টবেঙ্গল। জানা গিয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইএফএ কাস্টমস ম্যাচের সূচী প্রকাশ না করায় কোচ আলেজান্দ্রো ফুটবলারদের ছুটি দিয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার অনুশীলনের পরেই স্প্যানিশ কোচ কোলাডোদের ছুটি দিয়ে দেওয়ায় ৩ অক্টোবর ম্যাচ খেলতে রাজি নয় লাল-হলুদ। ২০ অক্টোবরের পর ম্যাচ হলে খেলার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করা হয় ইস্টবেঙ্গলের তরফ থেকে। অথচ পুলিশের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর অনেক কষ্টে ম্যাচ খেলার অনুমতি জোগাড় করা সম্ভব হলেও ইস্টবেঙ্গল বেঁকে বসায় হতবাক আইএফএ সচিব জয়দীপ মুখোপাধ্যায়।

ছুটির দিনেও ৩ অক্টোবরের ম্যাচের ভবিষ্যৎ ঠিক করতে আইএফএ অফিসে বৈঠক ডাকা হয় ২অক্টোবর বিকেলে। সেখানে পুলিশের অনুমতি, মাঠ কর্তৃপক্ষের অনুমতি কিংবা বিপক্ষ দল কাস্টমস ম্যাচ খেলতে রাজি থাকলেও একমাত্র ইস্টবেঙ্গল বেঁকে বসায় বৃহস্পতির ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল অনিশ্চয়তা। তবে ম্যাচের আগেরদিন সন্ধ্যা অবধি কল্যাণী স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের কাছেও ম্যাচ বাতিল হওয়ার কোনও খবর নেই।

অঙ্কটা জটিল হলেও এখনও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের সামনে। সেক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে কাস্টমসকে সাত কিংবা তার বেশি গোলের ব্যবধানে হারাতে পারলে খেতাব উঠবে লাল-হলুদের মাথায়। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল বৃহস্পতিবারের ম্যাচে মাঠে না নামলে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে? আইএফএ’র নিয়ম অনুসারে বুধবার বিকেলের সভায় আইএফএ সূচী অপরিবর্তিত রাখায় ইস্টবেঙ্গল বৃহস্পতির ম্যাচ না খেললে তাদের পয়েন্ট কাটা যাবে। সেক্ষেত্রে চিঠি দিয়ে আগে থেকে যদি তারা ম্যাচ না খেলার কথা জানায় তবে কাটা যাবে তিন পয়েন্ট।

অন্যথায় কিছু না জানিয়ে বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে ওয়াকওভার দিলে সেক্ষেত্রে পাঁচ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হবে লাল-হলুদের। আর এই পরিস্থিতিতে পয়েন্ট কেটে নেওয়া হলে চ্যম্পিয়ন তো দূর অস্ত প্রথম চারে শেষ করাও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে আলেজান্দ্রোর দলের। আর শতবর্ষে দাঁড়িয়ে এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করার আগে কী পুনরায় বিবেচনা করবে নাকি সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে ইস্টবেঙ্গল টিম ম্যানেজমেন্ট, এখন সেটাই দেখার।