কলকাতা: লিগ টেবিলে অবনমনের আওতায় থাকা শিলং লাজংয়ের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবারের জয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল লাল-হলুদের। কিন্তু তাই বলে লাজংকে নিয়ে এমন ছেলেখেলা করবেন আলেজান্দ্রোর ছেলেরা, সেটা বোধহয় ভাবেননি অনেক ইস্টবেঙ্গল সমর্থকই। পাস, পাস আর পাস। এই মন্ত্রেই ভ্যালেন্টাইনস ডে’র বিকেলে পাহাড়ি দলটিকে ছিঁড়ে খেল পদ্মাপাড়ের ক্লাব। কিন্তু পাঁচ গোলে জয়ের পরও স্বস্তি নেই ইস্টবেঙ্গল শিবিরে। এমনকি ম্যাচ শেষে তাদের উদ্বেগের বিষয়ে ফেডারেশনের দ্বারস্থ হতে যাচ্ছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা।

বৃহস্পতিবারের বিকেলে যুবভারতীতে যখন পাহাড়ি দলটিকে মাটি ধরাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল, ঠিক তার আগে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ঘটে গিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে মারাত্মক জঙ্গি হানার ঘটনা। কাশ্মীরের অবন্তীপুরায় সিআরপিএফ জওয়ানদের গাড়িতে গুলিবৃষ্টি ও আত্মঘাতী জঙ্গিহানায় নিহত শহিদ হন চল্লিশেরও বেশি জওয়ান। পরে ন্যাক্কারজনক এই হামলার দায় স্বীকার করে নেয় জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য আদিল আহমেদ।

আর উপত্যকায় এহেন জঙ্গি হামলায় ঘটনাতেই বড় জয়ের পরও চিন্তায় লাল-হলুদ শিবির। কারণ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রিয়াল কাশ্মীরের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলকে তাদের অ্যাওয়ে ম্যাচটি খেলতে হবে উপত্যকার মাটিতেই। শ্রীনগরের টিআরসি গ্রাউন্ডে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা দুপুর ২ টো থেকে। কিন্তু উপত্যকার অশান্ত পরিস্থিতির কথার ভেবে সেই ম্যাচ খেলা নিয়ে উদ্বেগ দানা বেঁধেছে লাল-হলুদ শিবিরে। তাই ম্যাচ শেষে সেখানকার অশান্ত পরিস্থিতির কথা নিয়ে ফেডারেশনকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লাল-হলুদ শিবির।

ইস্টবেঙ্গলের চিন্তার উপযুক্ত কারণও রয়েছে। কারণ উপত্যকার অশান্ত পরিস্থিতিতে ফুটবলারদের নিরাপত্তা একটা বড়সড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। তাই লাল-হলুদের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ফেডারেশন এখন নিরপেক্ষ কোনও ভেন্যুতে ম্যাচ খেলাতে আগ্রহী হয় কিনা, সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। উল্লেখ্য, ১০ ফেব্রুয়ারী রিয়াল কাশ্মীর-ইস্টবেঙ্গল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল শ্রীনগরে। কিন্তু সেখানকার প্রতিকূল আবহাওয়ায় ম্যাচটি খেলানো সম্ভব না হওয়ায় পরিবর্তিত সূচি ঘোষণা করে ফেডারেশন। এরপর এদিনের ঘটনার পর ভূ-স্বর্গের পরিথিতির কথা মাথায় রেখে ইস্টবেঙ্গলের ডাকে ফেডারেশন সাড়া দেবে কিনা, উত্তরের অপেক্ষায় লাল-হলুদ জনতা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ