কোয়েম্বাটুর: ২০১৯ ডিসেম্বরে আই লিগের সেরা কোচ হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। মাস ঘুরতে না ঘুরতেই ১৮০ ডিগ্রি বদলে গিয়েছে ছবিটা। কলকাতা ময়দানে কোনওকিছুই স্ট্যাটিক নয়। এই আপ্তবাক্যকে সত্যি করে জানুয়ারীর মাঝপথেই ইস্টবেঙ্গল ছেড়েছেন ডিসেম্বরের সেরা কোচ আলেজান্দ্রো মেনেন্দেজ গার্সিয়া। শহর ছেড়েছেন দিনদু’য়েক হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালের বিমানে তিনি যখন কলকাতা ছাড়ছেন, শীতের সকালেও কুয়াশা গায়ে মেখে চোখের জলে আলে স্যারকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন প্রিয় সমর্থকেরা।

তাঁর ‘দশ নম্বর জার্সির’ এহেন বিদায়ী অভ্যর্থনা আপ্লুত করেছিল স্প্যানিশ বসকে। বিমানবন্দরের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়েও আলেজান্দ্রোকে কলকাতা না ছাড়ার আকুতি করেছিলেন সমর্থকেরা। কিন্তু নিঠুর ভাগ্যের পরিহাস হয়তো তিলোত্তমায় আর আটকে রাখতে পারেনি ‘স্প্যানিশ ফুটবলের ছোট বস’কে। রিয়াল মাদ্রিদ-স্পোর্টিং গিজন যুব দলের প্রাক্তন কোচ সেদিন স্পেনে পৌঁছে লাল-হলুদ সমর্থকদের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন, ‘তোমাদের স্থান সবসময় আমার হৃদয়ে। তোমরা আজীবন আমার দশ নম্বর জার্সি হয়েই থাকবে।’

সমর্থকেরা তো পারেননি তাঁদের প্রিয় আলে স্যারকে ভুলতে। স্প্যানিশ বসের মায়া কাটিয়ে নয়া ঘরানায় এখনও ধাতস্থ হতে পারেননি দলের ফুটবলাররাও। চেন্নাইয়ে এদিন ম্যাচ জয়ের পর লাল-হলুদ ফুটবলাররা যা করলেন, তাতে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবির গানের লাইন ধার করে বলাই যায়, ‘ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের চোখে-ঠোঁটে-গালে আলে স্যার লেগে আছেন।’

হ্যাঁ, ঠিক তাই। রবিবার কোয়েম্বাটুরে চেন্নাই সিটি এফসি’কে ২-০ হারিয়ে জয়ের সরণীতে ফিরল ইস্টবেঙ্গল। আর ম্যাচ জয়ের পর সদ্য প্রাক্তন হওয়া কোচের ছবি অলংকৃত জার্সি নিয়ে সেলিব্রেশনে তাঁকে সম্মান জানালেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। যদিও কাশিম আইদারা, মেহতাব সিং’দের হাত ধরে সেলিব্রেশনটা শুরু হয়ে গিয়েছিল মাঠেই। অবাক ব্যাপার, মাঠে সেই সেলিব্রেশনে যোগ দিয়েছিলেন আলেজান্দ্রো বিদায়ের পর দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া আনসুমানা ক্রোমাও।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ঘটনা নজর এড়ায়নি সুদূর স্পেনে বসে থাকা ভদ্রলোকটির। নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলের স্টোরিতে সদ্য প্রাক্তন হওয়া ক্লাবের ফুটবলারদের তাঁকে ঘিরে আবেগের সেই ছবি পোস্ট করেন মেনেন্দেজ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন লাল-হলুদ ফুটবলারদের।

উল্লেখ্য, মার্কোস জিমেনেজ দে লা এসপাদা মার্টিন ও হাইমে কোলাডোর গোলে এদিন চেন্নাইকে হারায় ইস্টবেঙ্গল।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা