লুধিয়ানা: আই-লিগের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় অধরা ইস্টবেঙ্গলের। শিরোনামটা এমন হতেই পারত। কিন্তু ফুটবলাররাও তো মানুষ, আর ঠিক সে কারণেই শুক্রবার লুধিয়ানা পৌঁছনো নিয়ে একপ্রস্থ নাটকের পর এদিনের এক পয়েন্ট লাল-হলুদের কাছে মহামূল্যবান বিবেচিত হতে বাধ্য।

ম্যাচ শুরুর হাতে গোনা কয়েকঘন্টা আগে দীর্ঘ ৬-৭ ঘন্টার বাস জার্নি সেরে লুধিয়ানা পৌঁছনোর পর শনিবার ইস্টবেঙ্গলের থেকে পয়েন্টের প্রত্যাশা বিশেষ করেননি অনুরাগীরা। তাই দ্বিতীয় ম্যাচে এসে জয়ের মুখ না দেখলেও লুধিয়ানার এক পয়েন্ট আগামী ম্যাচে আত্মবিশ্বাস জোগাবে ফুটবলারদের। গতকাল অর্থাৎ ম্যাচের আগেরদিন সন্ধেয় বিমানে দিল্লি পৌঁছে লুধিয়ানা যাওয়ার জন্য তাঁদের জন্য বরাদ্দ অমৃতসর এক্সপ্রেস মিস করেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফরা। নিরুপায় হয়ে এরপর সন্ধে আটটা নাগাদ গন্তব্যে (লুধিয়ানা) পৌঁছনোর জন্য দিল্লি থেকে বাস ধরেন তাঁরা। মধ্যরাত্রে সেখানে পৌঁছে দুপুর ২টোয় ফুটবলারদের পক্ষে কতটা ভালো খেলা সম্ভব, সেটা আন্দাজ করতে বড় ফুটবলবোদ্ধা হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

সঙ্গত কারণেই এমন অপেশাদারিত্বের জন্য ইনভেস্টর গ্রুপের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিতে থাকেন সমর্থকেরা। সাংবাদিক সম্মেলনের কারণে যদিও কোচ আলেজান্দ্রো মেনেন্দেজ, সহকারী কোকো ও কাশিম আইদারা আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন ভেন্যুতে। জার্নি বিভ্রাটের পর শনিবার দুপুরে শারীরীক এবং মানসিক ভাবে ক্লান্ত ফুটবলারদের থেকে খুব বেশি প্রত্যাশী ছিলেন না স্প্যানিশ বসও। গত ম্যাচের একাদশে একটি মাত্র পরিবর্তন এনে পঞ্জাব এফসি’র বিরুদ্ধে দল সাজান তিনি। কমলপ্রীতের পরিবর্তে রাইট ব্যাক হিসেবে এদিন শুরু করেন সামাদ আলি মল্লিক।

প্রথমার্ধে দু-একটি বিক্ষিপ্ত সুযোগ ছাড়া কখনোই বিপজ্জনক মনে হয়নি লাল-হলুদ ফুটবলারদের। একটি ক্ষেত্রে জুয়ান মেরার কর্নার থেকে আশিম আইদারার অন টার্গেট হেডার এবং আরেকটি ক্ষেত্রে পিন্টু মাহাতা’র ঠিকানা লেখা ক্রস থেকে হাইমে কোলাডোর সুযোগ নষ্ট ছাড়া সেই অর্থে বলার কিছু নেই। দু’টি ক্ষেত্রে দলের পতন রোধ করেন পঞ্জাব গোলরক্ষক। এরইমধ্যে গোল তুলে ম্যাচে এগিয়ে যায় পঞ্জাব। পুরনো দলের বিরুদ্ধে এদিন পঞ্জাব দলে ছিলেন সঞ্জু প্রধান, কেভিন লোবো ও বালি গগনদীপ।

ম্যাচের ১২ মিনিটে সঞ্জুর ফ্রি-কিক থেকেই হেডে বল তিনকাঠিতে রাখেন ড্যানিলো। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক কর্নার আদায় করে নেয় ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু তা থেকে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তাঁরা। সুযোগ তৈরিতে ব্যর্থ হয় হোম টিমও। অবশেষে ম্যাচ শেষ হওয়ার ছ’মিনিট আগে লাল-হলুদের পরিত্রাতা হয়ে অঠেন গত ম্যাচের নায়ক জুয়ান মেরা। ৮৪ মিনিটে বল ধরে বিপক্ষ বক্সে পৌঁছে যান তিনি। এরপর বিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলের ১ পয়েন্ট নিশ্চিত করেন স্প্যানিয়ার্ড।