কল্যাণী: সবকিছু বদলে যেতে পারে মুহূর্তে। কিন্তু সেজন্য আমাদের দরকার ভাগ্য। দরকার জয়। পঞ্জাব ম্যাচের আগেরদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই বার্তা দিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরা। কিন্তু দুঃসময় যেন পিছু ছাড়ার নয় ইস্টবেঙ্গলের। শতবর্ষে অবনমনের ভ্রুকুটি তাড়া করে বেড়াচ্ছে ক্লাবে। শেষ ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে হেরে পিঠ ঠেকেছে দেওয়ালে। এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবার কল্যাণী স্টেডিয়ামে ইয়ান ল’র পঞ্জাবের মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল।

লক্ষ্য ছিল শুরুতেই গোল তুলে নেওয়া। সেই লক্ষ্যে এদিন ম্যাচের মাত্র ৯ মিনিটে আনসুমানা ক্রোমার গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু গোটা ম্যাচে ইনসিওরেন্স গোল তুলে নিতে ব্যর্থ রিভেরার ছেলেরা। আর ভঙ্গুর  রক্ষণ নিয়ে এই ইস্টবেঙ্গলের থেকে ম্যাচে ক্লিনশিটের প্রত্যাশা করা বাতুলতা। ফল যা হওয়ার হল। ৪০ মিনিটে গিরিক খোসলার গোলে ম্যাচে সমতা ফেরাল পঞ্জাব এফসি। ইস্টবেঙ্গল-পঞ্জাব এফসি ম্যাচ শেষ হল ১-১ গোলে।

লালরিনডিকার পরিবর্তে কমলপ্রীত সিং ও জুয়ান মেরার পরিবর্তে এসপাদা মার্টিনকে এদিন প্রথম একাদশে এনে এদিন দল সাজান রিভেরা। প্রতি-আক্রমণে ম্যাচের ৯ মিনিটে গোল তুলে নিয়ে এদিন ঘরের মাঠে জ্বলে ওঠার বার্তা দেয় মশাল বাহিনী। এসপাদার থ্রু বল ধরে দূরপাল্লার শটে বিপক্ষ গোলরক্ষকের নাগাল এড়িয়ে বল জালে রাখেন ক্রোমা। লাল-হলুদে দ্বিতীয় ইনিংসে এটিই প্রথম গোল লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকারের। ৭ মিনিট বাদেই ম্যাচে সমতায় ফিরতে পারত পঞ্জাব। কিন্তু মাখান চোতের ডানপ্রান্তিক ক্রস থেকে ফাঁকা গোলের সামনে মাথা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন ব্রাজিলিয়ান ভালসি।

কিন্তু ৪০ মিনিটে গিরিক খোসলার গোলে ম্যাচে সমতায় ফেরে ইয়ান ল’র ছেলেরা। সার্জিও বারবোজার লব বলে খোসলার নেওয়া চকিতে শট জড়িয়ে যায় লাল-হলুদের জালে। বিরতির ৫ মিনিট আগেই ম্যাচে ফিরে আসে পঞ্জাব। বিরতির ঠিক এক মিনিট আগে ফের ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের লকগেট প্রায় খুলে ফেলেন মাখান। সময়মতো আশির আখতার এসে বল ক্লিয়ার না করলে হতাশা বাড়ত লাল-হলুদে।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১৫ মিনিটে একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট করেন গোলস্কোরার ক্রোমা। ৬০ মিনিটে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দিপান্দা ডিকাকে মাঠে নামান ল। উলটোদিকে এসপাদাকে তুলে জুয়ান মেরাকে নিয়ে আসেন রিভেরা। ৭৪ মিনিটে দিনের সহজতম সুযোগটি নষ্ট করে দলের জয়ের আশায় দল ঢেলে দেন সেই ক্রোমা। হাইমে কোলাডোর ক্রস থেকে হ্যান্ডশেকিং দূরত্বে দাঁড়িয়ে গোলে বল রাখতে ব্যর্থ হল লাইবেরিয়ান। ক্রোমার শট গোললাইন সেভ করেন আনোয়ার আলি।

শেষ অবধি ম্যাচের ফল অপরিবর্তিত না হওয়ায় ১ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে দু’দল। ড্র’য়ের ফলে ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে নবমস্থানে উঠে এলেও অবনমনের ভ্রুকুটি রয়েই যাচ্ছে লাল-হলুদে। পক্ষান্তরে ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে মোহনবাগানের সঙ্গে চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ল রঞ্জিত বাজাজের দল।